তাপদাহের দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে সহসাই মুক্তি মিলছে না। আরও কমপক্ষে সাতদিন তীব্র তাপে পুড়বে দেশ। এই সময়ের আগে দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
আর, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত গরমও কমার কোন সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই মুহূর্তে সারাদেশেই স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৯ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা রয়েছে।
সূর্যের প্রখর রোদে উত্তপ্ত নগরী। কংক্রিটের এই নগরী যেনো রুপ নিয়েছে উত্তপ্ত ভূখন্ডে। ঘরে বাইরে কোথাও তাপদাহ থেকে রেহাই মিলছে না। আদ্রতাজনিত অসহনীয়তাও চরমে।
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরে ২০ ভাগ সবুজ এলাকা থাকা প্রয়োজন, সেখানে আছে সাড়ে আট ভাগের কম।
নগরীতে উন্নয়নের নামে সব সবুজ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আর এতেই হয়েছে কাল। ইট কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে মেগাসিটি ঢাকা। কোথাও নেই সবুজ।
সূর্যের তাপ শোষণ করে গাছপালা, নদী খালবিল আর জলাশয়। কিন্তু, রাজধানীতে গাছপালা উজাড় হয়েছে অনেক আগেই। দু’একটি পার্ক বা উদ্যান ছাড়া কোথাও গাছপালা নেই।
নেই পর্যাপ্ত জলাশয়। তাই সূর্যের তাপ শোষন না হয়ে ফিরে আসছে শহরে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে যানবাহন ও শীতাতপ যন্ত্র থেকে সৃষ্ট তাপও।
আর, এসব মিলিয়েই জনজীবনে নাভিশ্বাস।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, মে মাসে এবার বৃষ্টি কম হয়েছে প্রায় ৮৬ শতাংশ।। এপ্রিলে কম হয়েছে ৪৬ শতাংশ। এ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ৩২ ডিগ্রি।
কিন্তু কোন কোন জেলায় তাপমাত্রার পারদ উঠেছে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। দিনের গড় তাপমাত্রা থাকছে ৩৭ ডিগ্রির মত। তবে তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি।
সব মিলে এই পরিস্থিতি থাকতে পারে আরও কমপক্ষে সাতদিন। তার আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কোথায় সামান্য বৃষ্টি হয়তো হবে। কিন্তু তাতে তাপদাহ কমবে না।
আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, দিনাজপুর জেলার তাপমাত্রা ৩৫-৪০ ডিগ্রিতে ওঠানামা করছে। এতে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।
তিনি জানান, এখন যেহেতু কালবৈশাখীর মৌসুম সেহেতু দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে তবে তাপপ্রবাহের কোনো পরিবর্তন হবে না। কোরবানির ঈদের পরে বৃষ্টি হতে পারে।
পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার শেষের দিকে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে সপ্তাহ শেষে বিক্ষিপ্তভাবে দেশের কোথাও বৃষ্টি হলেও তাপপ্রবাহ কমার সম্ভাবনা কম।
বায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সালাম বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনই এই পরিস্থিতির কারণ। সব ধরনের ঋতুই চরম আকার ধারণ করেছে, জলবায়ুর চরিত্র বদলে গেছে।
এপ্রিল-মে মাসে সাধারণত দক্ষিণের বাতাস প্রবাহিত হয়। কিন্তু এবার দেখা গেছে উল্টো চিত্র। কোন কোন সময় উত্তর-পূর্ব দিক থেকেও বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
তাই, বাতাসে জলীয়বাস্পের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে আদ্রতাজনিত সমস্যাও অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। এটিও গরম বেশি অনুভূত হবার কারণ।
একাত্তর/এআর
