পটুয়াখালীর দুমকিতে এক গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে বাইরে থেকে বাসার দরজা বন্ধ করে পালিয়েছে মুখোশধারী দুই দুর্বৃত্ত। এতে আগুনে ঝলসে গেছে ওই গৃহবধূর ছয় মাস বয়সী সন্তানও।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা সদরের নুতনবাজার সংলগ্ন শাহজাহান মুন্সির ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দগ্ধ সুমি আক্তার (২০) দুমকি সাতানী গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন প্রিন্সের স্ত্রী।
ওই গৃহবধূর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রতিবেশী কলেজশিক্ষক আনিসুর রহমান মিন্টু জানান, ওই দম্পতি চলতি মাসের ২ তারিখে শাহজাহান দারোগার ভাড়া বাসায় ওঠেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাসায় চিৎকার ও গোঙানির শব্দে ছুটে গিয়ে প্রতিবেশীরা বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি বন্ধ দেখতে পান। এসময় ভেতরে ঢুকে অগ্নিদগ্ধ সুমিকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সুমির স্বামী জামাল হোসেন প্রিন্স পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চাকরির পাশাপাশি একটি কম্পিউটারের দোকান চালান। ঘটনার সময় তিনি দোকানে ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
সুমি প্রতিবেশীদের জানান, মুখোশধারী দুই দুর্বৃত্ত হঠাৎ বাসায় ঢুকে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে বাইরে থেকে ছিটকিনি বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এতে তার হাত, বুক, পেটসহ শরীরের অনেকাংশ ঝলসে যায়। এছাড়াও তার ছয়মাসের শিশুপুত্রের শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়।
আরও পড়ুন: পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজন গ্রেপ্তার
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। কারা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একাত্তর/এসজে
