গত নভেম্বরে ওপেনএআই প্রযুক্তি জগতে চ্যাটজিপিটি নামের একটি চ্যাটবট আত্মপ্রকাশ করে, যা প্রযুক্তি জগতে এক বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন চ্যাটজিপিটির ওপর নির্ভরশীল।
তবে সম্প্রতি এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির বিপুল খরচ মেটাতে গিয়ে দেউলিয়া হতে চলেছে নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআই। ২০২৪ সালের মধ্যেই এমন অঘটন ঘটতে চলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।
অ্যানালেটিক্স ইন্ডিয়া ম্যাগাজিন নামে বাণিজ্যিক পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এআই যুক্ত চ্যাটজিপিটি চালাতে প্রতিদিন খরচ হয় সাত লাখ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় খরচের পরিমাণ দৈনিক ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ওপেনএআই জিপিটি ৩.৫ ও জিপিটি ৪ ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের থেকে টাকা নিচ্ছে। কিন্তু তারপরও কোম্পানিটি যথেষ্ট রাজস্ব তুলতে ব্যর্থ।
চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর থেকেই মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে এই অ্যাপ। কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। যা এক কথায় অকল্পনীয়। কিন্তু আচমকাই এই ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
সিমিলারওয়েব নামে এক সংস্থা জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে জুনের চেয়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ শতাংশ কমেছে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগে ছিল ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫ বিলিয়নে।
কেন এমন ঘটছে? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম প্রথম বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাদের কর্মীদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু পরে সেইসব কোম্পানিই বুঝতে পারে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব। তারপরই ওইসব কোম্পানি নিজেদের উদ্যোগেই চ্যাটজিপিটির মতো নিজস্ব চ্যাটবট তৈরি করে নিয়েছে।
অ্যানালেটিক্স ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই এখনও লাভের মুখ দেখতে পারেনি। গত মে মাস থেকে চ্যাটজিপিটির প্রসার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকে ওপেনএআইয়ের। কোম্পানিটির ক্ষতির পরিমাণ এখন ৫৪০ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।
একাত্তর/এসজে
