ঢাকার দোহারে একই পরিবারের পাঁচজনকে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
শুক্রবার র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ধীৎপুর এলাকায় রাতের আঁধারে পেট্রোল ঢেলে বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তিন শিশুসহ পাঁচজন। তারা হলেন- জুলহাস উদ্দিন শেখ (৪৮), তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম (৩৫), ছেলে জুনায়েদ (১০), মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (১২) ও ভাতিজি তাবাসসুম (০৯)।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে র্যাব-১০ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থেকে ঘটনার মূলহোতাসহ তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার দুইজন হলেন, মূল পরিকল্পনাকারী মো. রুবেল (২১) ও সহযোগী মো. রানা মাহমুদ (২৪)।
দোহার থানা পুলিশ সূত্র জানায়, জুলহাস উদ্দিনের বসতবাড়িতে ওই দিন রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জুলহাসের ভাই বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার রুবেল একজন কাঠমিস্ত্রি। দীর্ঘদিন ধরে জুলহাসের বাড়িতে থাকতেন তিনি। গতিবিধি ভালো না লাগায় রুবেলকে বাড়ি ছাড়তে বলেন জুলহাস। এ নিয়ে রুবেল ও জুলহাসের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। পরে রুবেল জুলহাসকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন।
সে ঘটনার ১৪ দিন পর রুবেল ও তার সহযোগীরা জুলহাসের পরিবারের লোকদের হত্যা করতে মঙ্গলবার রাতে জুলহাস উদ্দিনের বাড়ির মূল ফটক ও ঘরে তালাবদ্ধ করে চারপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জুলহাস উদ্দিন শেখ, তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার, মেয়ে জান্নাত, ছেলে জুনায়েদ ও ভাতিজি তাবাসসুম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ওই রাতে আগুনে জুলহাসের ঘরে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র পুড়ে গেছে বলে দাবি স্বজনদের।
এ ঘটনায় দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, দোহার থানার ওসি হারুন অর রশিদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন।
৪৮ ঘণ্টায় খোঁজ মেলেনি হুমায়ুনের, পরিবারের ক্ষোভ