বাগেরহাটে শরণখোলা উপজেলায় বহু পুরনো একটি চলাচলের রাস্তা নিজেদের দাবি করে তাতে দেয়াল তুলেছে একটি পরিবার। এতে পথ আটকে গেছে চারটি গ্রামের পরিবারের।
ঘটনাটি উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের। রাস্তায় দেয়াল তুলেছেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন খান ও তার স্ত্রী তুলি বেগম। তাদের দাবি, রাস্তাটি তাদের জমির ওপর থেকে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আমিনুর খানের বাড়ি থেকে রামচন্দ্র মিস্ত্রির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ ফুট। রাস্তাটি স্বাধীনতার আগে থেকেই ১৩ পরিবার এবং জিলবুনিয়া, রাজেশ্বর, কদমতলা ও লাকুড়তলা গ্রামের শত শত মানুষ মিলেমিশে ব্যবহার করে আসছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টিআর ও হতদরিদ্র প্রকল্প থেকে কয়েক বার সংস্কারও করা হয়েছে রাস্তাটির। কিন্তু মাওলানা দেওয়ার খান হঠাৎ করে রাস্তার জমি নিজের দাবি করে সেখানে পাকা দেয়াল তৈরি করেন।
তারা জানান, সবশেষ শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে সেখানে আরও উঁচু করে ইট গাথা শুরু করলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তাতে চালচলের পথ খোলেনি।
অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য দিলিপ কুমার মিস্ত্রি, ইব্রাহিম তালুকদার, জামাল শিকদার, পান্না তালুকদার, মতি হাওলাদার জানান, প্রায় ১০০ বছর আগে তাদের বাবা-দাদার আমল থেকেই এই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন। মাওলানা দেলোয়ার খানের পূর্বপুরুষরা এই জমি জনগণের চলাচলের জন্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু দেলোয়ার হোসেন এখন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করাসহ রাস্তার মাঝখানে পাকা দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এখন তারা একেবারেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
গ্রামের ইউপি সদস্য কাওসার আকন জানান, রাস্তাটি বহু বছরের পুরনো। এই রাস্তায় সরকারি বরাদ্দ থেকে কয়েক বার সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু দেলোয়ার মাওলানার নির্দেশে তার স্ত্রী হঠাৎ সেখানে দেয়াল তুলেছেন। দেলোয়ার কারো কথা শুনতে চান না। তারপরও এব্যাপারে বসে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হবে।
শরণখোলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত কুমার সরদার জানান, এর আগে পুলিশ পাঠিয়ে দেয়ালের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করার জন্য উভয় পক্ষকে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে নাশকতা, ধর্ষণসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি এলাকায় থাকেন না।
এব্যাপারে জানতে দেলোয়ারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার স্ত্রী তুলি বেগম জানান, এই রাস্তার জমি আমাদের। এখান থেকে কাউকে চলতে দেবো না। এখানে আমরা ইন্ডাস্ট্রি করবো, তাই রাস্তা বন্ধ করেছি।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, কেন এবং কিসের ভিত্তিতে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
