দুই বছর আগে রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজ ছাত্রী সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি হত্যা মামলায় ৩৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আর এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো চাঞ্চল্যকর এ মামলার।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আলী হোসাইনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ২১ মে।
গত ২৫ এপ্রিল আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালত আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর আদালত ২৯ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশের দিন ঠিক করেন।
মামলার ৩৩ আসামির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হন ২৬ জন। এদের মধ্যে ১৯ জন কারাগারে ও সাত জন জামিনে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন বাকি সাতজন। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন- তালিকাভুক্ত শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ ওরফে মন্টু ও জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক।
২০২৪ সালের ২৪ মার্চ মতিঝিল এজিবি কলোনি এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফিরছিলেন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক টিপু (৫৫)।
শাহজাহানপুরে ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকা অবস্থায় আততায়ীরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে এসে গাড়িতে থাকা টিপু ও তার সঙ্গীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
এ সময় মাইক্রোবাসের পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান জামাল প্রীতি (২২) নামের এক কলেজ ছাত্রীও গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। আসামি করা হয় অজ্ঞাতদের।
এর আগে মামলার প্রধান আসামি সুমন শিকদার ওরফে মুসা ও মাসুম মোহাম্মদ আকাশসহ চারজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
এরপর গত বছরের পাঁচ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৩৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ইয়াসিন সিকদার।
মামলার আসামিরা হলেন– শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহম্মেদ মন্টু, ফ্রিডম মানিক ওরফে জাফর, প্রধান সমন্বয়কারী সুমন সিকদার মুসা, শুটার মাসুম মোহাম্মদ আকাশ, শামীম হোসাইন, তৌফিক হাসান ওরফে বিডি বাবু, ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মারুফ রেজা সাগর, ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ওরফে ‘ঘাতক’ সোহেল, মতিঝিল থানা জাতীয় পার্টির নেতা জুবের আলম খান রবিন, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল শাহরিয়ার।
আসামিদের মধ্যে আরো রয়েছেন- মাহবুবুর রহমান টিটু, নাসির উদ্দিন মানিক, মশিউর রহমান ইকরাম, ইয়াসির আরাফাত সৈকত, আবুল হোসেন মোহাম্মদ আরফান উল্লাহ ইমাম খান, সেকান্দার শিকদার আকাশ, মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম মাতবর, আবু সালেহ শিকদার, কিলার নাসির, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ মারুফ খান, ইশতিয়াক আহম্মেদ জিতু, ইমরান হোসেন জিতু, রাকিবুর রহমান রাকিব, মোরশেদুল আলম পলাশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ তালুকদার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুর, রিফাত হোসেন, সোহেল রানা, ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক নেতা আমিনুল, সামসুল হায়দার উচ্ছল ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাবুল।
কিলিং মিশন শেষে সীমান্ত পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন আকাশ