পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বাকি বিল্লাহ। তার অভিযোগ, ভোটের মাঠে প্রভাব খাটাচ্ছেন এমপি পুত্র গোলাম হাসনায়েন। একই অভিযোগ আছে মাঠে থাকা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর। তবে এমপি পুত্র বলছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। সকাল-বিকেল চলে গণসংযোগ, দুপুরের পর থেকে চলে মাইক আর মিছিলে প্রচার।
এখানে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাম হাসনায়েন রাসেল।
বাকি তিন প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনবারের চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ। তার অভিযোগ নির্বাচনে প্রভাব খাটাচ্ছেন এমপি পুত্র। একই অভিযোগ রয়েছে আরেক প্রার্থীর।
আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাকী বিল্লাহ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এমপিপুত্র হুমকি-ধামকি দেয়াসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তিনি এসব না করলে সমস্যা হতো না।
অপরদিকে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মেছবাহুর রহমান রোজ বলেন, সহিংসতা দলের মধ্যে বিরোধ চরম পর্যায়ে চলে গেছে। অনেকে নিজের ব্যক্তিত্বও হারিয়ে ফেলছেন।
অবশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোলাম হাসনায়েন রাসেল। তার দাবি, দুইবার পৌর মেয়র থাকার সময় এলাকার উন্নয়ন করেছেন, তাই তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে চাইছেন এলাকাবাসী।
মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম রাসেল বলেন, কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারিত চেষ্টা তিনি করছেন না। জনগণ যাকে চাইবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন। আমি জনগণের জন্য কাজ করেছি।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও এক পক্ষের অভিযোগ, এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছেন এমপি-পুত্র। আরেকপক্ষের দাবি, পৌরসভায় সফলতার কারণেই রাসেলকে চান তারা।
উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্যের সন্তানদের প্রার্থী না হতে নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে, পাবনায় এই নির্দেশনার কোন চিঠি না পাওয়ার কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল।
এক লাখ ৩ হাজার ১৯১ জন ভোটারের ভাঙ্গুরা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন ২১ মে। তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুই জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন জন।
উপজেলা ভোটের আগে পাহাড় অশান্ত, থেমে থেমে গুলি