প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সম্পর্ক আরও উন্নয়নের আশা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:২২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। তবে, বিকশিত ভারত ও সোনার বাংলা গড়তে দুই দেশের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব প্রয়োজন বলে মনে করছেন বক্তারা।

শুক্রবার একটি দৈনিকের আয়োজিত, ‘বাংলাদেশ-ভারতের নতুন সরকার: সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের নতুন সূচনা’ -শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা তিস্তার পানি বণ্টনের অগ্রগতি আনতে জোর দেন।

তারা প্রশ্ন তোলেন, সত্যিই যদি সম্পর্ক বন্ধুত্বের হয় তবে তিস্তার পানি যেটুকু আছে তা ভাগ করতে হবে। বলেন, সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতায় নেই বাংলাদেশ। সীমান্তের হত্যা বন্ধে আরও তৎপর হতে হবে।

দুই দেশের ভিসা সহজীকরণ বিষয়ে জোর দেন ভারতের সাংবাদিকেরা। অনলাইনে যুক্ত হয়ে ভারতীয় সাংবাদিক বলেন, ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষাখাতে লাইন অব ক্রেডিট দিয়েছিলো তা ব্যবহৃত হয়নি, নিরাপত্তার স্বার্থে দু’দেশের প্রতিরক্ষাখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা দরকার।

গেলো সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন দুই দেশের সরকার প্রধান। আসছে ২১ জুন আবারও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যাবার কথা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্তের নতুন সূচনা শীর্ষক এই আলোচনা।

তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি সমাধানের পথ খুলতে পারে বলেও মনে করছেন বক্তারা।

সাবেক কূটনীতিক শমসের মোবিন চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করি দ্রুতই অগ্রগতি দেখতে পাবো।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ মনে করেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি সংবেদনশীল বিষয়। কোনো দেশই এ চুক্তি করার ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখে। তিস্তা ইস্যুতে ভারতের বিনিয়োগ নেয়ার আগে পানি ভাগাভাগির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সীমান্ত হত্যা বন্ধে আলোচনা জোরদার করতে হবে। তবে প্রতিরক্ষা খাতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের যে লাইন অব ক্রেডিট দিয়েছিলো ভারত সেটি ব্যবহৃত হয়নি, নিরাপত্তার স্বার্থে দু’দেশের প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপরও জোর দিলেন আলোচকরা।

ভারতীয় সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিকভাবে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। প্রতিরক্ষাখাতে সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিস্তা বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার।

ল্যান্ড বাউন্ডারি ও সমুদ্রসীমার মত জটিলতা নিরসন হয়েছে। বাকি অমীমাংসিত বিষয়ে সমাধান আসবে প্রত্যাশা সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের।

‘বাংলাদেশ-ভারতের নতুন সরকার: সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের নতুন সূচনা’ -শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা

শাহরিয়ার আলম বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ ছিলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কারণে কোনো চ্যালেঞ্জই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দু’দেশের মধ্যে প্রতিবেশী হিসেবে সম্পর্ক এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। দু’দেশের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্বে দৃষ্টান্ত। এ সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাবে।

সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু পানি। পানিবণ্টন ইস্যুতে দু’দেশ সচিব পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলো অনেক আলোচনার পর। এখন সেই জায়গা থেকে সরে পানিবণ্টন ছাড়া অন্য কোনো প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার অর্থ দুই দেশের যৌথ সিদ্ধান্তকে সম্মান না করা।

তিনি বলেন, ফেনি নদীর পানি দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার চিন্তা করেনি। তিস্তার ন্যায্য পানির বণ্টন না পেলে দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

প্রতিবছর বাংলাদেশের ২০ লাখ মানুষ ভারতে যায়। তাই ভিসা সহজীকরণের উপর জোর দেন বক্তারা।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের সফর তিন দিনের হতে পারে। এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠক ২২ জুন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

টানা চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চূড়ান্ত হয়েছিলো। যদিও চীন গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেইজিং নিতে চাইছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির টানা তৃতীয় দফা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ জুন দিল্লি যান। মোদির শপথ গ্রহণের পর দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয় এবং উভয় নেতাই পরস্পরকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ফলে আবার অল্প সময়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাচ্ছেন।

একাত্তর/আরএ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর