আপিল বিভাগের আদেশ না মেনে অবরোধে কোটাবিরোধীরা 

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৫ পিএম

হাইকোর্টের আদেশে এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে আপিল বিভাগ; এই সময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না। কোটাবিরাধী আন্দোলনকারীদেরও ক্লাসে ফিরতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু এসবের কিছুই মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তারা আগের মতোই অবরোধ-কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।  

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা এখন নতুন দাবি তুলেছেন যে, আদালত নয়, সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে।

বুধবার কোটা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের উপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দেয় আপিল বিভাগ। এর ফলে, আগামী সাত আগস্ট পরবর্তী শুনানির আগ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না। 

অর্থাৎ কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোটা বাদেই এই একমাস নিয়োগ চলবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছে, তাই এখন এটি পুনর্বিবেচনার এখতিয়ার আপিল বিভাগের। ছাত্র-ছাত্রীরা চাইলে তাদের বক্তব্য আদালতে তুলে ধরতে পারেন। আদালত তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।

কিন্তু আপিল বিভাগের আদেশে ক্লাসে ফেরার কোনো লক্ষণ নেই আন্দোলনকারীদের। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এদিন সকাল থেকেই অবরোধে নেমেছে তারা। বাংলা ব্লকেড নাম দেওয়া আন্দোলনে সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 

রাজধানীর সার্ক ফোয়ারা মোড় ঘিরে কোটাবিরোধীদের অবরোধ।

দুপুরে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ২০টি পয়েন্ট অবরোধ করে রেখেছে তারা। এতে প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে মহানগরীর পরিবহনব্যবস্থা। তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। হাসপাতালে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। 

আপিল বিভাগের আদেশ আসার পর সংবাদ সম্মেলনে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, দাবি আদায়ে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে। 

তার দাবি, কোটা সংস্কারের দাবি সরকারের নির্বাহী বিভাগের কাছে, আদালতের কাছে নয়। 

রাজধানীর সাইন্সল্যাবে কোটাবিরোধীদের অবরোধ।

তাই, নির্বাহী বিভাগ থেকে কোটা সংস্কারের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং সন্ধ্যায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র জারি করে সরকার। গত ৫ জুন সেই পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি চাকরিতে আগের কোটা পদ্ধতি ফিরে আসে।   

তবে হাইকোর্টের আদেশ না মেনে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরে শাহবাগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তার আন্দোলন করছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোটাবিরোধীদের অবরোধ।

রোববার থেকে শুরু হয়েছে বাংলা ব্লকেড নামের অবরোধ কর্মসূচি। আর এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন দেশের বিভিন্নস্থানের শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ছাড়াও দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক আটকে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে রেল যোগাযোগে। 

২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিলো। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিলো।

রাজধানীর মহাখালীতে কোটাবিরোধীদের অবরোধ।

একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়। কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল বিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

 

আরবি
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম হোসেনকে খালাস প্রদান করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেট অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন করতে বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
এখন থেকে যেকোনো আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর