প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এখানে দুটো পক্ষ মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকার। ভাবতে অবাক লাগে রোকেয়া হলের মেয়েরাও বলে তারা রাজাকার। তারা কী শিক্ষা পেলো! তারা কী জানে ২৫ মার্চ কী হয়েছিলো! এসব তারা দেখেনি। তাই তারা রাজাকার পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে।
সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখ লাগে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের মেয়েরাও শুনি তারা ‘রাজাকার’ স্লোগান দিচ্ছে। তারা কি একাত্তরে এই হলের ইতিহাস জানে? শিক্ষার্থীরা কি জানে, কী পাষবিক নির্যাতন পাকিস্তানি হানাদাররা রোকেয়া হলেই করেছে! রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতো। এসব শিক্ষার্থীরা সেসব দেখেনি। কী শিক্ষা তারা নিলো...আসলে এসব জানেনা বলেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের রাজাকার বলতে লজ্জা পাচ্ছে না।
রোববার সন্ধ্যায় চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এতো ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? আর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তাদের কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে?
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে তাদের ‘অপমান’ করা হয়েছে। এনিয়ে রাতেই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লোগান দিতে থাকে, ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার, রাজাকার’। এমন ধৃষ্টতায় দেশবাসীসহ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। নানাভাবে এর প্রতিবাদ আসতে শুরু করে। বিশেষ করে ঢাবির রোকেয়া হলের নারী শিক্ষার্থীরা ‘রাজাকার’ দাবি করে স্লোগান দিলে তাতে ক্ষোভ আরও বাড়ে। পরে সোস্যালে তা উগড়ে দেন নেটিজেনরা।
বলেন, এই রাজাকাররাই বাঙালি নারীদের ‘গনিমতের মাল’ আখ্যা দিয়ে গণধর্ষণকে বৈধতা দিয়েছিল। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে এসে সেই রাজাকারের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে এই নারীরা!
বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই সরকার দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চায় জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করলে পুরস্কৃত হবেন। সব মন্ত্রণালয়ে নিচের দিকেও অনিয়ম দুর্নীতি হয়। সেটি নজরদারিতে রাখতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যে অর্থ ব্যয় হয় তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কাজগুলোতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
অনিয়ম-দুর্নীতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি হলে সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়। দুর্নীতি করে খুব কম সংখ্যক মানুষ। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। অনেকে মনে করেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সরকারের গায়ে লাগে। কিন্তু দুর্নীতি যেই করুক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কেউ যেন চক্রান্ত করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়তে হবে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
কোটা নিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে শক্ত হাতে দমন: ডিএমপি