সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করেছেন চাকরি প্রত্যাশীরা। তাদের একটি দল এ বিষয়ে আলোচনা করতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সাথে দেখা করতে গেছেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন চাকরি প্রত্যাশীরা। পরে তাদের একটি দল, সন্ধ্যার দিকে আসিফ নজরুলের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান।
তারা বলছেন, সরকারের সুস্পষ্ট আশ্বাস ছাড়া আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। যে দলটি উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করতে গেছেন, তারা এসে না ঘোষণা দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, শাহবাগ ছেড়ে যাবেন না কেউ।

অবরোধের ফলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শাহবাগ মোড়কে ঘিরে থাকা সবগুলো সড়কে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় ১৬২টি দেশে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা কমপক্ষে ৩৫ বছর, তার মধ্যে কিছু দেশে তা উন্মুক্ত। কিন্তু আমাদের মাত্র ৩০ বছর। নতুন বাংলাদেশে আমরা এই বৈষম্য মানি না।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সব পর্যায়ে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আজ থেকে ৩৩ বছর আগে ১৯৯১ সালে ২৭ বছর থেকে ৩০ বছরে উন্নিত করা হয়। যখন বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিলো ৫৭ বছর।
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ বছরে এসে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা যৌক্তিক। গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করা হয়। কিন্তু, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি না করে সেটি ৩০ বছরেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যার কারণে দেশে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি শাহাবুদ্দিন শাকিল গণমাধ্যমকে বলেন, দুপুরের দিকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছিলো। সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা হঠাৎ করে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।
অবরোধের কারণে এ এলাকায় আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য কাজ করছেন, যোগ করেন ওসি।
চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে শাহবাগ অবরোধ