লক্ষ্মীপুরে গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে নিম্নাঞ্চল। ফলে আবারও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলার রামগতিতে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। সিনিয়র আবহাওয়া অবজারভার সোহরাব হোসেন শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে।

তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত চলছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে । রোববার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যেসব এলাকা বন্যার পানির নিচে তলিয়ে ছিলো, গত কয়েকদিন ধরে ওই অঞ্চলের পানি নামতে শুরু করেছে। কোনো কোনো এলাকা থেকে পানি নেমেও গেছে। তবে, শুক্র ও শনিবারের ভারী বৃষ্টিতে আবারও কোথাও কোথাও পানি জমেছে। তলিয়ে গেছে চলাচলের রাস্তা।
তবে, খালে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় ঠিকমতো পানি নামতে পারছে না। এখনো জেলার ২০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১০ ওয়ার্ডের প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। দুর্ভোগের শেষ নেই।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজাপুর ও জামির তলী গ্রামের তিন হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী রয়েছেন। তারা ত্রাণ সহায়তাসহ আর্থিক তেমন সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। ওই এলাকায় চলাচলের রাস্তায় পানি থাকায় যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটছে। নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে বন্যায় কবলিত এলাকাবাসীর।
রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহসিন মিয়া জানান, বন্যার পানি শেষ না হতেই গত দু’দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ-উজ-জামান বলেন, নদীতে পানি বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জোয়ার এলে পানি বাড়ে। আবার ভাটায় কমে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তিনি জানান, যেসব জায়গায় এখনো পানিবন্দী মানুষ রয়েছেন ওই এলাকার খালগুলো দিয়ে দ্রুত পানি সরানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে মেঘনায় পানি বাড়ায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে।
কুমিল্লায় বাস চাপায় দুই পথচারী নিহত