বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যতো লোক ক্যানসারে আক্রান্ত হন তার প্রায় চার শতাংশই মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে ভোগেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন, যার প্রধান কারণ ধূমপান, তামাক সেবন এবং এইচপিভি সংক্রমণ।
নতুন এক গবেষণার বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিসিসি জানিয়েছে, নিয়মিত কফি এবং চা পান মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ ইউটাহর গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় ১০ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, কফি এবং চা পান মুখ, গলা, কণ্ঠস্বরের বাক্স এবং সাইনাসের ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
কফির উপকারিতা
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন চার কাপের বেশি ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান করেন, তাদের মাথা ও ঘাড়ের সব ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমে। বিশেষ করে মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ এবং গলার ক্যানসারের ঝুঁকি ২৪ শতাংশ হ্রাস পায়। এমনকি ক্যাফেইনবিহীন (ডিক্যাফ) কফিও গলার ক্যানসারের ঝুঁকি ২৮ শতাংশ কমাতে সাহায্য করে।
চায়ের প্রভাব
চা পানকারীদের ক্ষেত্রে, দিনে এক কাপ বা তার বেশি চা পান কণ্ঠস্বরের বাক্সের ক্যানসারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ এবং গলা ও নাকের পেছনের ক্যানসারের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ কমায়। বেশি পরিমাণে চা পানে এই উপকার আরও বৃদ্ধি পায়।
কেন এমন হয়?
গবেষকরা জানান, কফি ও চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যাফেইন, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ফেনোলিক যৌগ প্রদাহ কমায় এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া, কফি অন্ত্রের মাইক্রোব এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।
সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতা
এই গবেষণা পর্যবেক্ষণমূলক, অর্থাৎ এটি কফি বা চা পানের সাথে ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক দেখায়, তবে সরাসরি কারণ প্রমাণ করে না। ধূমপান, মদ্যপান বা সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার মতো অন্য বিষয় ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষণায় কফি বা চায়ে চিনি, দুধ বা ক্রিম যোগ করার প্রভাব বিবেচনা করা হয়নি, যা স্বাস্থ্য উপকার কমাতে পারে। এছাড়া, অত্যন্ত গরম পানীয় গলার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল নিশ্চিত করতে এবং কার্যকারণ সম্পর্ক বোঝার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। ক্যানসার রিসার্চ বাংলাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ফলাফল আশাব্যঞ্জক, তবে এখনই কফি বা চা পানের ওপর নির্ভর করে ক্যানসার প্রতিরোধের পরামর্শ দেওয়া যায় না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এখনও সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এই গবেষণা কফি ও চা পানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকার সম্পর্কে নতুন আশা জাগায়, তবে বিশেষজ্ঞরা সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়েছেন।
