প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
দ্য হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটন থেকে সোমবার (৭ জুলাই) চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
এতে ট্রাম্প লেখেন, প্রিয় ড. ইউনূস, আপনাদের কাছে এই চিঠি পাঠানো আমার জন্য একটি বড় সম্মানের বিষয়। আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কের শক্তি ও প্রতিশ্রুতি এবং আপনার মহান দেশের সাথে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে পরবর্তী বাণিজ্য কেবল আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং ন্যায্য, বাণিজ্যের সাথে হবে।
অতএব, আমরা আপনাকে বিশ্বের এক নম্বর বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসাধারণ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, বাংলাদেশের শুল্ক এবং অ-শুল্ক, নীতি ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে সৃষ্ট এই দীর্ঘমেয়াদি এবং অত্যন্ত স্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি থেকে আমাদের অবশ্যই সরে আসতে হবে।

ট্রাম্প একইসাথে চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পণ্য উৎপাদন করে, তাহলে কোনো শুল্ক দিতে হবে না।
চিঠিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ যদি পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক বাড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের পণ্যে শুল্ক আরও বাড়াবে।
তিনি লিখেন, যদি আপনি মার্কিন পণ্যে শুল্ক বাড়ান, তাহলে আপনার বাড়ানো হার আমাদের নির্ধারিত ৩৫ শতাংশের সঙ্গে যোগ হবে।
ট্রাম্প বলেন, এই শুল্ক বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধাগুলো সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয়।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের কারণে তৈরি হওয়া বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিঠির শেষ অংশে ট্রাম্প লিখেন, আমরা দীর্ঘ সময় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
ট্রাম্প বলেন, আপনি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনার পূর্বে বন্ধ থাকা ট্রেডিং মার্কেটগুলো খুলতে চান এবং আপনার দেশের শুল্ক এবং অ-শুল্ক, নীতি এবং বাণিজ্য বাধা দূর করতে চান তাহলে আমরা সম্ভবত এই চিঠির একটি সমন্বয় বিবেচনা করবো। আপনার দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে এই শুল্কগুলি ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী করা যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আপনি কখনোই হতাশ হবেন না। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এর আগে গত এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। যা ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছিলো। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এসব শুল্ক ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন তিনি। যা আগামী ৯ জুলাই শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন করে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প।
অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক হলেন জাহাঙ্গীর কবির