গলাচিপায় মাঝপথে দুটি প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। গত বছরের পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঠিকাদার সাবেক এমপি পালিয়ে গেলে দুর্ভোগ অনিবার্য হয়ে পড়ে উপজেলাবাসীর। এ অবস্থার উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদ দিয়েও কাজের কাজ হচ্ছে না।
উপজেলায় ‘দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে আয়রন ব্রিজের পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প’ এবং ‘বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রস্ততকরণ ও শক্তিশালী করণ’ এই দুই প্রকল্পের কাজ ঝুলে আছে । তার মধ্যে ব্রিজ পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং অন্য ব্রিজ একই ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডে এবং কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চারুছিফাই বাজার থেকে বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়া বাড়িয়া এ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ।
তার মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের টেন্ডার পায় ২০২৩ সালের এক নভেম্বর। এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিলো আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা ।

অপরদিকে, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল রাস্তা প্রশস্তকরণের টেন্ডারটি পায়। এই প্রকল্পও শেষ হওয়া কথা ছিলো গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। প্রকল্পের ব্যয় ছয় কোটি চব্বিশ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪ টাকা ।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম ইফতি এন্টারপ্রাইজ। এর মালিক পিরোজপুরের সাবেক এমপি মহারাজ মিরাজ। তিনি ব্রিজের প্রকল্প থেকে ৫০ শতাংশ ও সড়ক প্রকল্প থেকে ১৫ শতাংশ বিল ইতিমধ্যে তুলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলজিইডি।
তবে, প্রকল্পে কাজ শুরুর পর ব্রিজের কাঠামো হয়েছে এবং কিছু জায়গা সড়কের দুই পাশে তিন ফিট বাই তিন ফিট সড়ক বাড়ানো হয়েছে এবং সড়কের দুই পাশ কাটা আছে। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের গিলাবাড়িয়া বাজারে আট সিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেশিরভাগ সময় আমাদের এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয় । কিন্তু এতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও কষ্ট পাচ্ছে । প্রায় প্রতিদিন গাড়ি পড়ে যায়। কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটেই এই রাস্তায় ।
তারা জানান, অন্য দিকে লঞ্চঘাটসহ বাংলা চরের মানুষগুলো এই সড়ক দিয়ে পারাপার করেন । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ব্রিজ দিয়ে চালাচল করতে হয়। অনেক বাচ্চারা পানিতে পড়ে যাচ্ছে। গবাদি পশু পারাপারেও সমস্যা হচ্ছে। ব্রিজটি এক বছরের মতো এভাবে পড়ে আছে । এমন অবস্থায় বাঁশের একটি সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। রাস্তাটি পাকাকরণ করা গেলে যাতায়াত সহজতর হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে বলে স্থানীয়রা আশাবাদী।
এদিকে চারুছিফাই বাজার থেকে গুয়াবাড়িয়া এ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এই রাস্তাটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনের একটি লাইফলাইন। এর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে কলাগাছিয়া ও বকুল বাড়িয়া ইউনিয়নের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই রাস্তার উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গলাচিপা উপজেলার এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম জন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ব্রিজটির কাঠামো হয়ে গেছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক এবং ব্যাংক অ্যাকউন্ট জব্দ থাকায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। কাজগুলো পুনরায় শুরু করতে কিংবা বাতিল করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার চিঠি দিয়েছি। তিনি দাবি করেন, আমরাও চাই গলাচিপার মানুষের দুর্ভোগ দূর হোক। কেননা এ নিয়ে আমরাও বিব্রত অবস্থায় আছি।
