‘আপত্তি’ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব’ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার পরও তা বাতিল করে দিয়েছে চারুকলা অনুষদ। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে গেণ্ডারিয়ার কচিকাঁচার স্কুল মাঠে এই আয়োজন করার কথা থাকলেও এখানেও ‘স্থানীয়দের গোলযোগের আশঙ্কায়’ আয়োজন করতে পারেনি সংগঠনটি।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবটি করার কথা ছিলো। পরে আয়োজকেরা উৎসবটি একই সময়ে গেণ্ডারিয়ার কচিকাঁচার মেলার মাঠে আয়োজন করার ঘোষণা দেয়। সেখানে ‘অনুমতি না থাকার’ কথা জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে থেকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট জানান, প্রায় ১৯ বছর ধরে চলা এই শরৎ উৎসব কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়। কোভিড মহামারী ছাড়া কোনো বছরই উৎসবটি বন্ধ হয়নি। এবার করতে পারলাম না।
ভুঁইফোড় অনেক সংগঠন এসব আয়োজনকে অপহরণ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যারা এসবের নেপথ্যে, তারা কোনো দলের নয়। সংস্কৃতিকে ঠেকানোই এদের উদ্দেশ্য। এতে বরং বিব্রত হবে সরকারই।
আয়োজন না হলেও সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভিনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মানজার চৌধুরী বলেন, আমরা চারুকলার বকুলতলায় উৎসবটি করার জন্য পুলিশের অনুমতি নিয়েছিলাম। চারুকলা কর্তৃপক্ষকে ২৬ হাজার টাকা ভেন্যু বরাদ্দ বাবদ ভাড়াও পরিশোধ করেছি। কিন্তু আগের রাতে আমাদের কোনো কারণ ছাড়াই চারুকলায় ভেন্যু বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। সেখানে অনুষ্ঠানটি করতে না পেরে আমরা গেণ্ডারিয়াতে উৎসবটি করতে চেয়েছি। এখানেও পুলিশ এসে বন্ধ করে দিয়েছে।
বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর এক প্রতিবেদনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়ারী বিভাগ) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বরাত দিয়ে জানায়, গেণ্ডারিয়াতে শরৎ উৎসব করার ব্যাপারে কোনো পূর্ব-অনুমতি নেওয়া হয়নি।
বিডিনিউজটুয়োন্টিফোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চায় কেন অনুষ্ঠানটি হলো না। জবাবে তিনি জানান, এখানে অনুষ্ঠান করা নিয়ে অনেকের কাছ থেকে আপত্তি এসেছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের নানা পক্ষ থেকেও আপত্তি থাকার কারণে অনুষ্ঠানটি আগামীকাল এখানে করতে মানা করা হয়েছে।
কারা আপত্তি করেছে, কী ধরণের আপত্তি- জানতে চাইলে আজহারুল ইসলাম বিডিনিউজটুয়োন্টিফোরকে বলেন, আমি একটু অসুস্থ। দাঁতের ডাক্তারের কাছে এসেছি। এখন কথা বলতে পারছি না।
এদিকে মানজার চৌধুরীর বরাত দিয়ে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে জানায়, মৌখিকভাবে আমাদের বলা হয়েছে যে অনুষ্ঠানটি হলে কিছু সমস্যা হতে পারে। অথচ আমাদের কাছে অনুষ্ঠান আয়োজনের লিখিত অনুমতি রয়েছে। লিখিত অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন অনুষ্ঠানটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের অনুষ্ঠান সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়ার কথা ছিলো। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু চারুকলার গেট বন্ধ ছিলো।
ডেইলি স্টার জানায়, চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি পেয়েছি, যার মধ্যে আমাদের ছাত্রদের আপত্তিও রয়েছে।
