বাউলদের ওপর সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা নিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এবারের বর্ষবরণের মূল স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নববর্ষের ঐক্যতান গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
গত সোমবার থেকে চারুকলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে উৎসবের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো এবারও লোকজ মোটিফ আর বর্ণিল আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এবারের শোভাযাত্রায় বাউল সংস্কৃতির ওপর আঘাতের প্রতিবাদে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল কাঠামো হিসেবে থাকছে ‘দোতারা’। এ ছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, লোকজ মোটিফ হিসেবে হাতি ও ঘোড়া এবং নতুন দিনের সূচনার বার্তা দিতে থাকছে মোরগ। মোট পাঁচটি প্রধান মোটিফ নিয়ে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই শোভাযাত্রা কেবল উৎসব নয়, বরং এটি হবে শান্তি, অসাম্প্রদায়িকতা ও ঐক্যের এক জোরালো সুর। ঘৃণা ও বিভেদের বদলে সম্প্রীতির ঐক্যতানই এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
শোভাযাত্রার নাম ‘আনন্দ’ নাকি ‘মঙ্গল’ হবে—এ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে নিজের অভিমত জানিয়েছেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। তিনি বলেন, নাম যা-ই হোক না কেন, উৎসবের মূল সুর বা এর আবেদনে কোনো ফারাক হবে না।
কয়েক দশকের ঐতিহ্য মেনে করোনা মহামারিকালেও যে ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েনি, এবারও সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। আগামী ১০ দিন চারুকলা প্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে সেজে উঠবে এবং পহেলা বৈশাখের ভোরে নতুন সূর্যকে বরণ করে নেবে রাজধানীবাসী।
