পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কালিকাপুর নুরিয়া কামিল মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রার্থীদের এক ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও একই সময়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যকে অন্য ভেন্যুতে যেতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এমন কাজের আড়ালে কোনো দুর্নীতি থাকতে পারে।
এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি চিঠি এসেছে একাত্তরের হাতে। নিয়োগ প্রার্থীদের চিঠিতে দেখা যায়, ওই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়াসহ মোট ছয়টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী এক নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য চিঠি দিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
অপরদিকে, নিয়োগ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আমিন খলিফাকে চিঠি দিয়ে একই দিন, একই সময়ে অন্য একটি ভেন্যু পটুয়াখালী সরকারি জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকতে বলা হয়। ওই চিঠিতে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ বিশেষ কারণে তারিখ ও স্থান পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন।
এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও কালিকাপুর কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আমিন খলিফা বলেন, চাকরি প্রার্থীর ভেন্যু সরকারি মহিলা কলেজ হলেও আমাকে পাঠানো হয়েছে জুবলী স্কুলে। একই সময় দুই জায়গায় দুই রকমের চিঠি কেন দেওয়া হলো, তা আমি জানি না।
গভর্নিং বডির শিক্ষা অনুরাগী সদস্য মো. ফজলু মিয়া বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভায় গলাচিপা কালিকাপুর কামিল মাদ্রাসাকে পরীক্ষার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছিলো। পরে জানতে পারি পরীক্ষা পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে নেওয়া হবে। বিষয়টি আমাদের কাউকেই জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন দাবি করেন, আমি প্রার্থীদের ফোনে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের অভিযোগ, যথাযথ অনুমোদন ও আলোচনাবিহীনভাবে ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভুত। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে থাকতে পারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা, যার তদন্ত হওয়া উচিত।
