মাথায় গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ফোনালাপের বরাতে এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আজ দেশটিতে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে গিয়েছিলেন। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ড. বালাকৃষ্ণান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে হাদির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। ড. বালাকৃষ্ণান জানান, হাদির অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন।
প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন বলেও জানান প্রেস সচিব।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ এক ভিডিও বার্তায় জানান, ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও ক্রিটিক্যাল রয়েছে। তার অবস্থা আপাতত স্ট্যাটিক (অপরিবর্তিত)।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসা সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালেই চলবে এবং আপাতত কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্ট অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন তাঁর বিভিন্ন ইনভেস্টিগেশন করা হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
ডা. আহাদ জানান, বুধবারও শরিফ ওসমান হাদির সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তাঁর ব্রেনে যে ইস্কেমিয়া (রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা) ছিল, তা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে হার্ট, ফুসফুস ও কিডনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইউরিন আউটপুটও আগের মতোই সাপোর্টের মাধ্যমে বজায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাদির ব্রেনে গুলির একটি ছোট অংশ এখনও রয়ে গেছে। সেটি অপসারণে নতুন করে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে কি না এবং সে ক্ষেত্রে তাঁকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে কি না এসব বিষয় নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ডা. আহাদ বলেন, যে জায়গায় গুলির অংশটি রয়েছে, সেখানে অপারেশন করলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পাশাপাশি তাঁর শরীর এই মুহূর্তে দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল নিতে পারবে কি না, সেটিও চিকিৎসকেরা মূল্যায়ন করবেন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের ইচ্ছার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
