‘সাসপেন্স ভাঙবো আগামীকাল। ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।’—ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে হাত মেলানো (হ্যান্ডশেক) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এভাবেই রহস্য জিইয়ে রেখেছিলেন ভারত অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব। সেই ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক গুমোট ছবি। মাঠের আবহে লড়াই শুরু হওয়ার আগেই পরিষ্কার হয়ে গেলো—ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে সৌজন্যের সেই চিরাচরিত হাত মেলানো আর হচ্ছে না।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে হাত মেলাননি সুরিয়াকুমার। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়া কাপ চলাকালীন দুই দলের মধ্যে যে শীতল সম্পর্কের শুরু হয়েছিলো, বিশ্বকাপের মঞ্চেও তার কোনো পরিবর্তন ঘটলো না।
টসের জন্য যখন দুই অধিনায়ক মাঠে নামেন, সুরিয়ার চোখে-মুখে ছিল গাম্ভীর্য। পিচ সংলগ্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললেও প্রতিপক্ষ অধিনায়কের প্রতি তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন। টসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা রান তাড়ায় নামার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপরই কোনো সৌজন্য বিনিময় ছাড়াই নিজের জায়গায় ফিরে যান সুরিয়া।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, হাত না মেলানোর এই সিদ্ধান্ত এককভাবে সুরিয়ার নয়। উচ্চপর্যায় থেকে আসা নির্দেশনার কারণেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় দল। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের অনড় অবস্থানের প্রতিফলন এটি। যেখানে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তান-ভারত লড়াই কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে; মাঠের বাইরে কোনো সৌজন্য বা প্রথাগত রীতিনীতি বজায় রাখবে না ভারত।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবির মধ্যকার আলোচনায় এই হ্যান্ডশেক বিষয়টি অন্যতম জটিলতা হিসেবে দেখা দিয়েছিলো। এমনকি পাকিস্তান এই ম্যাচ বয়কট করার হুমকিও দিয়েছিল বলে গুঞ্জন ছিলো। তবে মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মাঠের বাইরে থাকা সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যেও আজ একই শীতলতা লক্ষ্য করা গেছে। ধারাভাষ্য বা আলোচনার জন্য দুই দেশের পাঁচজন সাবেক অধিনায়ক মাঠে উপস্থিত থাকলেও তাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বা কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়নি।
ভারতের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন খোদ সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, এই হাত না মেলানোর বিষয়টি ভারত শুরু করেছে যা অত্যন্ত অদ্ভুত। আমাদের মতো একটি দেশের জন্য এটি মানানসই নয়। হয় খেলার স্পিরিট বজায় রেখে খেলুন, নয়তো খেলবেন না।
মাঞ্জরেকারের মতো অনেকে সমালোচনা করলেও ভারত এই ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতিতেই অটল রয়েছে, যা কলম্বোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
গত বছর পেহেলগাম হামলা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সৌজন্য বিনিময় বন্ধ রাখার নীতি গ্রহণ করেছে ভারত। এর আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতেও ভারত অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো।
