মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতকে সুরক্ষিত রাখতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের 'বিশেষ মন্ত্রিপরিষদ কমিটি' গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আমাদের বেশ সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির আর্থিক দিকগুলো ও অভ্যন্তরীণ সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা তদারকি করবে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি। মূলত আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কমিটির প্রধান কাজ।

জ্বালানি সংকট সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার অর্ধেক করে দিয়েছেন। দিনের বেলা অফিসের কোনো জানালায় ভারি পর্দা (ব্লাইন্ড) না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যাতে প্রাকৃতিক সূর্যালোক ব্যবহার করে কাজ চালানো যায়। এছাড়া করিডোরে এনার্জি সেভিংস লাইট ব্যবহার এবং বাথরুমের বাতি অপ্রয়োজনে না জ্বালানোর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ অপচয় রোধে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার এবার অত্যন্ত কঠোর। সচিব জানান, সরকারি সব অফিস ও আদালতে এসির তাপমাত্রা কোনোভাবেই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না। অপ্রয়োজনীয় বা অবৈধ এসি সংযোগ থাকলে তা অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরানো এসিগুলোর পরিবর্তে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির এসি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট বা তদারকি কমিটি: এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার আগের সিদ্ধান্তগুলো কেন বাস্তবায়ন হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, এবার কেবল নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত হওয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হচ্ছে যারা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে এই নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে যাচাই করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন আমাদের জাতিগতভাবে সচেতন হতে হবে। বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মুহূর্তে সবাইকে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে। মূলত এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো কেবল সরকারি অফিসের জন্য নয়, বরং বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ অবস্থানে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছে সরকার।
