মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত বলে ঘোষণা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইরানি ক্রীড়ামন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, ইনফান্তিনো বুধবার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘টিম মেল্লি’ (ইরান দল) অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আসবে।
আমেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে পাকিস্তানে মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষ বারবার তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা- এই তিন দেশে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ফিফা এবং এর সভাপতি ইনফান্তিনো লজিস্টিক জটিলতার দোহাই দিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা ইরান দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ইরান দল অবশ্যই আসছে। তারা তাদের দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা কোয়ালিফাই করেছে এবং খেলোয়াড়রা মাঠে নামতে চায়। যদিও ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তবুও ইনফান্তিনো আশাবাদী, বিশ্বকাপের সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকবে। তিনি সম্প্রতি তুরস্কের আনতালিয়ায় ইরানি দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন, ফুটবলাররা আসন্ন বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছেন। তাঁর মতে, খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা প্রথম দলগুলোর অন্যতম ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে খেলবে। সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। এরপর ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। আর, ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে ইরান।

যদি ইরান নকআউট পর্বে উত্তীর্ণ হতে পারে, তবে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোও যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতি বিশ্বাস করেন, ফুটবলের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব এবং সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইরানকে টুর্নামেন্টে রাখার বিষয়ে আপসহীন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইনফান্তিনো এই ইস্যুতে ফুটবলের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২২ এপ্রিলের পর যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং মাঠের লড়াইয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত কতটা নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারে।
ত্যথসূত্র: রয়টার্স ও আজ জাজিরা
