আগামী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের কিছুটা লোডশেডিং চলছে। তবে আগামী মে মাসের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যুগ্ম সচিব বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণেই মূলত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। আর এ সংকট নিরসনের জন্য গত ৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ সচিব একটা মিটিং করেছিলেন এবং মিটিংয়ে ডিপিডিসি এবং ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এমনিতেই প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছুটা লোডশেডিং করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে এবার একটু বেশি হয়েছে, কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এই সংকট হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে আমরা জ্বালানি আমদানি করতে পারছি না। এ জন্য জ্বালানি বিভাগ স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে আমাদেরকে দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, মূলত আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকি মোট পাঁচটি পদ্ধতির মাধ্যমে। প্রাকৃতিক গ্যাস, ডিজেল, কয়লা, হাইড্রো, সৌর এবং বায়ুবিদ্যুতের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুৎ পেয়ে থাকি এবং কিছু বিদ্যুৎ আমরা আমদানিও করে থাকি।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যম ছাড়াও সবচেয়ে কম পয়সায় আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি হাইড্রো পাওয়ারের মাধ্যমে। তবে আমাদের দেশের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী আমরা হাইড্রোতে উৎপাদন করে থাকি মাত্র ২৩০ মেগাওয়াট। যেটা আমাদের মোট উৎপাদন ব্যবস্থার এক শতাংশ মাত্র।
তিনি আরও বলেন, এর পরেই হচ্ছে আমরা যদি আর্থিকভাবে ক্যালকুলেশন করি সেটা হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে আমাদের দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এত বেশি নেই। জ্বালানি সংকট রয়েছে এবং জ্বালানি বিভাগ থেকে এলএনজি আমদানি করে ফুয়েল মিক্স করে আমাদেরকে এটা সরবরাহ করে থাকে।
আমাদের যত পাওয়ার প্লান্ট আছে তার মধ্যে ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করে থাকি আসলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে। এই ৪৩ শতাংশ বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট, যোগ করেন তিনি।
জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে উম্মে রেহানা বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে যদি আমরা উৎপাদন করতে যাই সেখানে আমাদের ২ হাজার এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এতটা গ্যাস জ্বালানি বিভাগ থেকে আমাদেরকে সরবরাহ করতে পারছে না।
তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদেরকেও গ্যাসটা দিতে হচ্ছে এবং সার উৎপাদন করতে হয় এটা আমাদের দেশের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
মুখপাত্র আরও বলেন, জ্বালানির এই সংকটের কারণে তারা যদি ১২০০ এমএম সিএফডি গ্যাসও আমাদেরকে দিতে পারতো তাহলেও অনেক কম পয়সায় আমরা ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে ৮৫০ থেকে ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস দিতে পারছে।
এত সংকটের মধ্যেও ঢাকা শহরকে আমরা লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, যদিও ঢাকার বাইরে কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। তা আগামী মে মাসের মধ্যেই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের মুখপাত্র বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাহিদার অর্ধেকের কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা শহরে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গ্রামে কিছুটা লোডশেডিং করা হচ্ছে। গতকাল বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট, উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ মেগাওয়াট। সুতরাং প্রায় ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং হয়েছে গতকাল। আজও প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে।
তিনি বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বেশি উৎপাদন হবে, তখন সংকট কমবে, লোডশেডিং কমবে। ঘাটতির জন্য কৃষি ও শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
শান্তর সেঞ্চুরিতে বিপর্যয় সামালে শেষটা হলো না মনের মতো
মার্কিন ভণ্ডামিতেই থমকে আছে শান্তি আলোচনা: ইরান
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা থেকে জরুরি সহায়তা যাচ্ছে ইরানে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর