বাংলাদেশে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো কোন নীতিমালা মেনে পরিচালিত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার।
বাংলাদেশকে কোন রাজস্ব প্রদান না করেই এদেশের কোটি গ্রাহকের বিশাল বাজার থেকে এতোদিন এসব সামাজিক মাধ্যম যেভাবে হাজার কোটি টাকা আয় করেছে সে পথ বর্তমানে সংকুচিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) নূর সাফা জুলহাজের সঞ্চালনায় একাত্তর টিভির নিয়মিত টক-শো 'একাত্তর মঞ্চ' তে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্যাম সুন্দর শিকদার জানান, বিটিআরসি'র পক্ষ থেকে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কারণেই এসব সামাজিক মাধ্যম থেকে বর্তমানে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। এতে করে রাজস্ব প্রদান না করে এতোদিন তারা যেভাবে অবৈধ ব্যবসা করছিলো তাতে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হয়েছে।
ভার্চুয়াল দুনিয়া দাপিয়ে বেড়ানো ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোকে বিধিমালার আওতায় আনতে এবং এসব মাধ্যম থেকে উপযুক্ত রাজস্ব আদায়ের জন্য সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ ভূমিকা প্রয়োজন উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের আইন পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: দাবি আদায়ে কর্মবিরতি, তিনদিন বন্ধ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান
.png)
একাত্তর মঞ্চে যুক্ত হয়ে সাবেক তথ্যমন্ত্রী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমগুলো মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। তবে সামাজিক গণমাধ্যমের কোন গেটকিপার বা রেফারি নেই। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এসব মাধ্যম ব্যবহার করে কোটি টাকা আয় করছে, বিভিন্ন অপতথ্য-গুজব ছড়িয়ে অশান্তি, সংঘর্ষের জন্ম দিচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতেই প্রশ্ন আসে নিয়ন্ত্রণ বা উপযুক্তভাবে পরিচালনার। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এসব মাধ্যম ব্যবস্থাপনার কোন বিধিমালা না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ একাত্তর মঞ্চে যুক্ত হয়ে বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোন বিধান বাংলাদেশে নেই তা পুরোপুরি সঠিক নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪ নম্বর ধারায় সামাজিক মাধ্যমের দ্বারা পরিচালিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিধান রয়েছে।
একাত্তর/আরএইচ
