বর্তমান যুগে যেখানে সামান্য অর্থের লোভে মানুষ নীতি বিসর্জন দেয়, ঠিক সেখানে সততা ও মানবিকতার এক বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের দুই বন্ধু- আবু রাহাত ও আবু সোহান। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া আশি হাজার টাকার ব্যাগ কুড়িয়ে পেয়েও বিন্দুমাত্র লোভ না করে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রকৃত মালিকের হাতে। দুই তরুণ কলেজছাত্রের এই সততা ও মহৎ কাজের খবরে এখন প্রশংসার জোয়ার বইছে পুরো এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মহানন্দপুর এলাকায়। রাহাত ও সোহান উভয়েই মহানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্র। গত শনিবার দুপুরে ঘুরতে বের হওয়ার সময় বড়চওনা–কালিহাতী সড়কের ওপর একটি টাকার প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ব্যাগ খুলে দেখা যায় ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে নগদ ৮০ হাজার টাকা! টাকাগুলো নিজের কুক্ষিগত না করে দুই বন্ধু সিদ্ধান্ত নেন, যেভাবেই হোক এই টাকা এর আসল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
এরপর বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, রাস্তায় কিছু টাকা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, টাকাগুলো হারিয়ে ততক্ষণে মাথার আকাশ ভেঙে পড়েছিল এর মালিক আজিজুলের মাথায়। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) পদে চাকরি করেন। কালিহাতী ও সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে টাকা হারানোর কথা মাইকিং করে খুঁজছিলেন তিনি। আজিজুলের বাড়ি পাশের কালিহাতী উপজেলার সরিষাআটা গ্রামে।
অবশেষে মসজিদের মাইকের ঘোষণা আর খোঁজাখুঁজির সূত্র ধরে দুই বন্ধুর কাছে পৌঁছান অসহায় আজিজুল। সব তথ্য ও উপযুক্ত প্রমাণ যাচাই-বাছাই করার পর নিশ্চিত হন রাহাত ও সোহান।
পরদিন রোববার দুপুরে মহানন্দপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাক্ষী রেখে সসম্মানে আজিজুলের হাতে তুলে দেয়া হয় সেই আশি হাজার টাকা। নিজের হারিয়ে যাওয়া কষ্টার্জিত টাকা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে চোখের জলে বুক ভাসান আজিজুল।
টাকার লোভ সংবরণ করে এমন সততার পরিচয় দেওয়ায় রাহাত ও সোহানকে ধন্য ধন্য করছেন স্থানীয়রা। সমাজের অন্ধকার দূর করতে এই দুই তরুণের সৎসাহস ও মানবিকতা আগামী দিনে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে, এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।
নোয়াখালীতে বিকেলে তরুণ ও রাতে ৬০ বছরের বৃদ্ধকে গুলি
লক্ষ্মীপুর মাদ্রাসায় ছাত্রকে যৌন নিপড়ীন, শিক্ষক কারাগারে