উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের সীমান্তবর্তী শহর দান্ডংয়ে একদিনের চমকপ্রদ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। সেখানে তিনি ঐতিহাসিক কোরিয় যুদ্ধের একটি মেমোরিয়াল বা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন। রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঝটিকা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিম জং উন শনিবার সড়কপথে দানডং শহর সফর করেন এবং উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে নতুন চালু হওয়া একটি সেতুর ওপর দিয়ে দেশে ফেরেন। চীন হলো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদার।

এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সফরটিকে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই সফরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। মূলত উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন সমর্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫০-১৯৫৩ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষে চীনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ থামলেও দুই কোরিয়া কৌশলগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে এক ‘অবিনশ্বর’ বা অভেদ্য বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধন গড়ে উঠেছিল।
সফরকালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেন, উত্তর কোরিয়ার জনগণ চীনা জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার সেই গৌরবময় বছরগুলোকে চিরকাল স্মরণ রাখবে। তিনি আরও যোগ করেন, যে চীনা জনগণ রক্তের বিনিময়ে আমাদের বিপ্লবে সাহায্য করেছিল, তাদের প্রতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই কৃতজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য এশিয়া সফরকে সামনে রেখেই বেইজিং ও পিয়ংইয়ং নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের এই বার্তা দিল। একই সঙ্গে গত দুই বছর ধরে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক গভীর করার পর চীনের সঙ্গে এমন দৃশ্যমান ঘনিষ্ঠতা উত্তর কোরিয়ার সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যের নীতিকেই স্পষ্ট করে।
সফরকালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির চতুর্থ শীর্ষ কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং কিম জং উনকে সীমান্ত শহর দান্ডংয়ের ‘আমেরিকান আগ্রাসন প্রতিরোধ ও কোরিয়াকে সহায়তার মেমোরিয়াল হল’ ঘুরিয়ে দেখান। কিমের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে তাঁর প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সান হুই উপস্থিত ছিলেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেআরটি’র ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের সময় কিম জং উন তাঁর দাদা তথা উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং এবং আধুনিক চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংয়ের এক বিরল ও ঐতিহাসিক ছবি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
