লক্ষ্মীপুর-৪: নৌকার প্রার্থী ‘একা’, স্বতন্ত্রের সঙ্গে আওয়ামী লীগ

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে নৌকার সাথে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল ও ট্রাক মার্কার সাথে নৌকার তীব্র লড়াই হবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নৌকা এই ‘একা’ হয়ে গিয়েছে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সদস্য মোশারফ হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার সাথে লড়ছেন বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির একতারা মার্কায় মোহাম্মদ ছোলেমান।

এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রথমে প্রার্থী করেছিলো দলের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলীকে। তবে ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির সময় লক্ষ্মীপুর-৪ জাসদকে দেওয়া হয়। লাইলীকে প্রত্যাহার করে জাসদের মোশারফকে প্রার্থী করা হয়। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইস্কান্দার মির্জা শামীম। ঈগল মার্কা নিয়ে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ। তার স্ত্রী মাহমুদা বেগমও এ আসনে লড়ছেন তবলা মার্কা নিয়ে। তাছাড়া আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, নির্বাচনে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহায়েদ মুরাদসহ অনেক নেতা-কর্মী নৌকার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ অবস্থায় ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা পেলেও মোশারফ হোসেনের পাশে নেই আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ। এ নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। হতাশায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী মোশারফ হোসেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর প্রতি। সাধারণ ভোটারদেরও ধারণা যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে নৌকার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, ঈগল ও ট্রাকের মধ্যে হবে ভোটের তীব্র লড়াই।

নৌকার প্রার্থী সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে পাওয়ার আশায় ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ আসনে নৌকার প্রার্থী আমাকে একা করে দলীয় নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে না থেকে বিপরীতে লড়ছেন। তবে এ বিষয়ে দলীয় সিদ্বান্ত আসা প্রয়োজন। তা না হলে সাধারণ মানুষ নৌকা মার্কার কথা ভুলে যাবে। ভুলে যাবে এ আসনের উন্নয়নের কথাও। এ জন্য সবাইকে এক হয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করে শেখ হাসিনাকে উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইস্কান্দার মির্জা শামীম বলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের মানুষ সব সময় সংসদ নির্বাচনে নতুনদেরকে গ্রহণ করে নেয়। আমি  ভোটারদের কাছে যাচ্ছি এবং যথেষ্ট পরিমাণ সাড়া পেয়েছি। আওয়ামী লীগের একটা অংশ আমার হয়ে মাঠ কাজ করছে। এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি বিজয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী।

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বিগত দিনে নৌকা মার্কায় এ আসনে আমি জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য ছিলাম। এবার এলাকার মানুষের মতামতে আমি নৌকার বিপরীতে প্রার্থী হয়েছি। আমার মার্কা ঈগল। অতীতে আমি এ এলাকার ও মানুষের উন্নয়নের পাশে ছিলাম। সেই বিবেচনা তারা আমাকে বিজয় করতে পারে। আমি আশাবাদী। এছাড়া রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ অনেক নেতাকর্মী ঈগল মার্কাকে বিজয়ী করতে কাজ করছেন।

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী নৌকার বিপরীতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন, এ বিষয়টি আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আমি আত্মীয়-স্বজন উপেক্ষা করে দল ও দলের মার্কার পক্ষে কাজ করছি।

নির্বাচনে নৌকা প্রতীক বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সম্পর্কে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ মুরাদ বলেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আমরা ভোট করছি। আমরা যদি আওয়ামী লীগ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট না করি তাহলে জামায়াত ও বিএনপি এসে ভোট করবে?

তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে। রয়েছে ব্যক্তির পছন্দের প্রার্থীও। সেজন্য নির্বাচনে এ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ্’র (মামুন) পক্ষে ঈগল প্রতীকে ভোট করছি।