নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার।
তিনি বলেছেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সেনাবাহিনীকে কাজ করার জন্য নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা ভালো।
‘তবে নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে না রেখে তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সকালে রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় ভোটের প্রচারের সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে বৈঠকের পর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৫ হাজারের বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো।
‘এবার যদি বেশি প্রয়োজন হয়, সেভাবেই মোতায়েন করা হবে। অবশ্যই সবসময় প্রস্তুতি আছে। গতবার ৩৮৮ উপজেলায় ছিলো।’
তিনি জানান, এবারও সশস্ত্র বাহিনী ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে থাকবে।
বিএনপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়া তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
তৈমূর আলম খন্দকারের সোনালি আঁশ মার্কার পোস্টার প্রতিদিন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
‘প্রতিদিন কে বা কারা রাতের আধারে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। এমন হলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, তা বোঝা কঠিন হবে,’ বলেন এই প্রার্থী।
এদিকে ভোট কেন্দ্রে কোনো প্রার্থীর নিজের প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো ধরনের দায়িত্ব না দেবার আহ্বান জানিয়েছেন কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়া।
এদিন দুপুরে মুড়াপাড়া বাজারে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শাহজাহান ভূইয়া বলেন, রূপগঞ্জে নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীসহ তার পরিবারের সদস্যরা যমুনা ব্যাংকের পরিচালক। এবারের নির্বাচনে রূপগঞ্জে যমুনা ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ২২ জন কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
‘এমন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এসব কর্মকর্তাদের নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের হাতে লিফলেট বিতরণ করে ভোট প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এবং ওইসব কোম্পানির দেয়া টাকা হজম করার জন্য বিভিন্ন কথা বলে আসছে।
নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের জন্য সব ব্যাংক থেকেই লোকজন নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন গাজী।
ভোটের সময় ১৩ দিন মাঠে সেনাবাহিনী চায় ইসি