ইমরান হটানোর ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। 

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। খবর ভয়েজ অব আমেরিকা'র। 

২০২২ সালের ৮ এপ্রিল রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ইমরানের বিরুদ্ধে পাক পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। ভোটাভুটিতে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৭৪টি। ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবটি পাসের জন্য দরকার ছিলো ১৭২ ভোট। ফলে ১০ এপ্রিল ক্ষমতাচ্যুত হন পিটিআই প্রধান। 

পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লু বলেন, ইমরান খানের অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ‘কেবলগেট’ বা সাইফার কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত এই ঘটনাকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই অভিযোগ, এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মিথ্যা। পাকিস্তানে যেটিকে সাইফার বলা হয়, আমি সে সম্পর্কিত সংবাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছি। ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের দূতাবাস থেকে কথিত কূটনৈতিক তারবার্তাটি ফাঁস হয়েছে।

হাউস ফরেন রিলেশনস কমিটির সামনে তিনি আরও বলেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অথবা আমার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। এছাড়া ইমরান খানের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র হয়নি সেটি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত নিজেও স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন লু।

ইরানভিত্তিক পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড লু ২০২২ সালের গোড়ার দিকে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজীদকে ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। পরে সেই বিষয়টি একটি তারবার্তায় আসাদ মজীদ ইসলামাবাদে ইমরান খানের সরকারকে অবহিত করেন। যা পাকিস্তানে ‘কেবলগেট’ বা সাইফার কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিতি পায়।

ওই তারবার্তার সূত্র ধরে ইমরান খান দাবি করেন, ২০২২ সালে তার সরকার পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল। এই বিষয়ে ইমরান খানের বিরুদ্ধে একটি মামলাও আছে।

পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পাকিস্তান ও মার্কিন সাংবাদিকরা বিস্তারিত জানতে চান। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।  

এদিকে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট জানিয়েছিলো, পাকিস্তান সরকারের বিভিন্ন নথি বলছে, সংসদে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীরও সমর্থন ছিলো।

ইন্টারসেপ্টের দাবি, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমরানের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত কৌশল প্রয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি দূতকে জানানো হয়, ইমরানকে সরিয়ে দেওয়া হলে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উষ্ণ সম্পর্ক থাকবে, নইলে পাকিস্তানকে একঘরে করে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাবের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ইমরান খানের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেইসময় ইমরান খানের মস্কো সফর ক্ষুব্ধ করে তোলে যুক্তরাষ্ট্রকে।

আলোচিত সেই বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

ইন্টারসেপ্টের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড বলেছেন, তিনি মনে করেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট সফল হলে ওয়াশিংটনে সবাইকে ক্ষমা করা হবে। কারণ, তার রাশিয়া সফরটিকে একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।