বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে আছে, যদিও শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের মতো সঙ্কটে পড়েনি। তবে স্বল্পমেয়াদী বিদেশি ঋণ নিয়ে চিন্তার কারণ আছে।
একাত্তরকে একথা বলেছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক পরিচালক ড. সাদিক আহমেদ। তিনি বলেন, সঙ্কটের অজুহাতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার কিংবা কাঁচাবাজারে নিয়ন্ত্রণ বুমেরাং হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কি সংকটে? ওয়াশিংটন পোস্টের এমন এক শিরোনামকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই পরিচালক। তবে তার মতে সংকট যে নেই তাও বলা যাবে না।
চলমান আর্থিক সংকট মেটাতে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই সংস্থারই সাবেক পরিচালক বললেন, ঋণ পাওয়াটা বড় কথা নয়, এর উপযুক্ত ব্যবহার জরুরি।
ডলার সংকট এড়াতে রিজার্ভ রক্ষার নামে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ডলারের ভিন্ন ভিন্ন দর বেধে দেয়াকেও ঠিক মনে করেন না এই অর্থনীতিবিদ।
মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা এবং বাজারে অভিযানেরও পক্ষে নন তিনি। কারণ, তার মতে, বাজার অর্থনীতিতে এসবে কাজ হয় না। উল্টো সরবরাহ সংকটে পড়ে।
বিশ্বমন্দা কতোটা গভীর হবে? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নির্ভর করছে রাশিয়া ইউক্রেণ যুদ্ধের ওপর। এখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সহ সবাইকেই বুঝতে হবে যে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ভারসাম্য ফেরাতেই এই যুদ্ধ থামানো জরুরি।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোরেল চলবে পাতাল পথে
এই অর্থনীতিবিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারত্ব এখন অনেক বেশি। এ সময় চীনকে নিয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে এই সংস্থার সিদ্ধান্তটি ছিলো বড়কর্তাদের একটি বড় ভুল। তা বুঝতে পেরেই বিশ্বব্যাংক এখন বাংলাদেশের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। আর এদেশে সহযোগিতার ক্ষেত্রও বড় করতে চাচ্ছেন তারা।
একাত্তর/এসি
