বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। আর পুরো পথ যাবে মাটির নিচে দিয়ে। দেশের প্রথম এই পাতাল রেলপথে থাকবে মোট ১২টি পাতাল স্টেশন। ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের বড় অংশের খরচ দেবে জাইকা।
এদিকে, আসছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। আর ২০৩০ সালের মধ্যে চলবে ঢাকার ছয়টি রুটে।
রাজধানীর কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্টের তৃতীয় টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথে চলাচল করবে মেট্রোরেল। এই পথের পুরোটাই হবে মাটির নিচে। ফলে এটি হবে দেশের প্রথম পাতাল রেল। এছাড়াও নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার হবে উড়াল পথ।
৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের বড় অংশের ব্যয় বহন করবে জাইকা। ২০২৬ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ হবার কথা। এই প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানের নিপ্পন কোয়াই জেভি’র সাথে চুক্তি হলো রোববার।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে জাইকা অর্থায়ন করছে এক হাজার ১২৩ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছে ৩৯৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন স্মার্ট যানবাহন। পৃথিবী এগিয়ে চলেছে আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না।
আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের প্রজেক্ট এমআরটি লাইন-৬ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। প্রথম অংশ এ সময় উদ্বোধন করা হবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বলেন, জনসাধারণ, সাংবাদিক সহ সকল অংশীজনের সহযোগিতা ছাড়া জনবহুল বাংলাদেশে এমআরটি লাইন-৬ বাস্তবায়ন সম্ভব ছিলো না।
নিপ্পনের শীর্ষ কর্মকর্তা ইচি গুচি তমু হিতে বলেন, জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক এ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও এগিয়ে যাবে। মাতারবাড়ী প্রজেক্ট, শীতলক্ষ্যা সেতু। এমআরটি-১ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জাপান-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৩ বাংলাদেশের সাথে জাইকার যে দীর্ঘ সম্পর্ক তার সূচনা হয়। বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরের বিভিন্ন প্রকল্পে জাপান অর্থায়ন করছে। জাইকা বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী।
আরও পড়ুন: সেসব এলাকায় আঘাত হানতে পারে সিত্রাং
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট (লাইন-১) প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। এ প্রকল্প ব্যয় মোট ব্যয় ৫২,৫৬১.৪৩ কোটি টাকা।
এরমধ্যে প্রকল্প সহায়তা বাবদ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়ন করছে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার।
একাত্তর/এসি
