গরু ও মুরগির মাংসের বাজারে কোন সুখবর নেই। নতুন করে দাম আর না বাড়লেও আমিষের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। ২৩০ থেকে ২৫০ টাকার নিচে ব্রয়লার মুরগি মিলছে না। সোনালি মুরগির দাম ছুঁয়েছে ৩৩০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা।
এ তো গেলো মুরগির মাংস, অন্যদিকে মুরগির ডিমও এখন বাড়তি। ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। পোলট্রি বাজারের এমন পরিস্থিতির জন্য বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করছেন ক্ষুদ্র খামারিরা। যদিও এনিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেননি তারা।
খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ার দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে মাংস। এক মাসে দাম বেড়েছে কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত। গরু ও মুরগি- উভয়ের মাংসের বাজারে কোন সুখবর নেই।
মাসখানেক আগেও ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে যে ব্রয়লার মুরগি কেনা যেতো এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকায়। কোথাও কোথাও সেটি ২৫০ টাকা। এক কেজি সোনালী মুরগি কিনতে লাগছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। দেশি মুরগির দর উঠেছে ৫৫০ টাকা কেজি।
এক মুরগি বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। দাম বাড়তি ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির। আশা করছি রোজার আগে দাম কমবে। আর কি কারণে এখন দাম বাড়ছে, সেটি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না খুচরো বিক্রেতারা।
কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে খাসির মাংস এখন বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ টাকা। আর ১০০ টাকা বেড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়।
গরুর মাংসের দাম আরও বাড়ার কথা উল্লেখ করে বিক্রেতারা জানান, গরুর মাংসের দাম আরও বাড়বে। শবে বরাতের আগেই গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা হবে। রোজায় এটি আরও বেড়ে সাড়ে আটশ’ টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
ডিমের বাজারেও কোন স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন এখন ১২৫ টাকা, বাদামি ডিম ১৩০ আর হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা ডজন। বিক্রেতারা জানালেন, এখন সব বড় খামার নিজেরা ডিম বাজারজাত করছেন। সেই সঙ্গে কর্পোরেট হাউসগুলো ডিমের বাজারে ঢুকায় দাম বাড়ছে।
ক্রেতারা জানান, বাজারে বাড়তি দামের কারণে এখন সংসারের অন্য সব খরচের সঙ্গে আপোষ করেই চলতে হচ্ছে। এক ক্রেতা জানান, তিনি শেষবার মুরগি কিনেছেন এক মাস আগে। দাম বাড়তে থাকার কারণে এখন আর কিনতে পারছেন না। ডিম কিনে পকেট সামাল দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ‘মানসম্মত চিকিৎসায় উন্নত দেশকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে’
এ পরিস্থিতির জন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার জানান, অনেক দিন ধরে তারা একই অভিযোগ করে আসলেও এ নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। ফলে দাম কমারও কোন সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, গরু ও মুরগির মাংসের দাম বাড়ায় এখন নিম্ন আয়ের মানুষেরা ভিড় করছেন মাছের বাজারে। এক সময় ছুটির দিনে আয়োজন করে মাংস রান্না করা হলেও এখন সেই ভালো খাবারের জায়গা করে নিয়েছে মাছের নানা পদের তরকারি।
একাত্তর/এসজে
