চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে প্রথমবারের মতো ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়ানোর মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। সে সঙ্গে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশের সর্বপ্রথম চারটি ‘ব্র্যান্ড নিউ’ আল্ট্রাম্যাক্স ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার।
এই চারটি জাহাজ হলো- এম ভি মেঘনা ভিক্টোরি, এম ভি মেঘনা প্রেস্টিজ, এম ভি মেঘনা হোপ এবং এম ভি মেঘনা প্রগ্রেস। মেঘনা গ্রুপের বহরে যুক্ত হওয়া চার নতুন জাহাজের একটি ‘মেঘনা ভিক্টোরি’ উদ্বোধন করে এই যাত্রার শুভসূচনা করেন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান।
এছাড়াও অতিথি হিসেবে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর মো. নিজামুল হক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাহবুব উর রহমান এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল।

চারটি জাহাজের জন্য এইচএসবিসি বাংলাদেশ সাইনোশিওর গ্যারান্টির বিপরীতে ৭১ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ব্যবস্থা করছে। জিয়াংসু ইয়াংজি-মিতসুই শিপবিল্ডিং নামের জাপান ও চীনের একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি মেঘনা গ্রুপের চারটি বাল্ক ক্যারিয়ার তৈরি করেছে।
সমুদ্রগামী এসব জাহাজের ধারণক্ষমতা ৬৬,০০০ ডিডব্লিউটি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী আল্ট্রাম্যাক্স ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ারগুলো বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে মনে করে এমজিআই।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টর ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই সেক্টরকে আরো ব্যবসা বান্ধব করতে চাই। এই সেক্টরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। কন্টেইনার টার্মিনালে প্রথমবারের মতো ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়ানোর মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে মেঘনা গ্রুপ।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের কারণে মেঘনা গ্রুপ গত ১১ বছরে তাদের বহরে ২২ টি জাহাজ যুক্ত করেছে। এই সেক্টরে আরো বিনিয়োগ অংশীদারি বাড়াতে কাজ করছে সরকার। দক্ষ নাবিক তৈরি করতে মেরিন একাডেমির সংখ্যা একটি থেকে চারটিতে উন্নীত করা হয়েছে। আরো চারটি ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট তৈরি করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের মাধ্যমে। শতভাগ পণ্য দেশীয় জাহাজের পরিবহনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০০ জাহাজ। দেশের বহরে থাকা ৩৮ টি জাহাজ থেকে গত চার বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫টি।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে আমরা দেশীয় কোম্পানির জাহাজেই দেশের আমদানি রপ্তানির শতভাগ পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম হবো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যও পরিবহন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবো।

সভাপতির বক্তব্যে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, সমুদ্র পথে বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ভাড়া প্রদান করতে হয়। এর আগে এই ভাড়ার বেশিরভাগই পরিশোধ করতে হতো বিদেশী জাহাজ কোম্পানিগুলোকে। ২০১৮ সালে জাহাজ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়।
আরও পড়ুন: আগামী বছর শুরু এমআরটি-৫ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ
তিনি বলেন, এক সময় জাহাজের সংখ্যা কমে গিয়ে ৩৮টি হয়ে গেলেও বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজের সংখ্যা এখন ৯৫টি। এই সব জাহাজের নাবিকদের বেতন বাবদ ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হচ্ছে। এসব জাহাজে পণ্য পরিবহনের কারণে সাতশ থেকে আটশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে।
এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আল হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাহবুব উর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম।
একাত্তর/আরএ
