মেয়াদি ঋণের কিস্তির অর্ধেক পরিশোধ করে খেলাপিমুক্ত থাকতে সুযোগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ এপ্রিল নিয়মিত থাকা ঋণের এপ্রিল–জুন সময়ের কিস্তির ৫০ শতাংশ দিলে তাকে আর খেলাপি করা যাবে না।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।
করোনার প্রভাব শুরুর পর ২০২০ সালে ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বছর কোনো কিস্তি না দিলেও কেউ খেলাপি হয়নি। ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা তার কিস্তি নিয়মিত ১৫ শতাংশ দিলেই হতো। এরপর রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গতবছরের শেষ প্রান্তিকে একজনের যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা ৫০ শতাংশ দিলে খেলাপি হয়নি।
এই ছাড় উঠে যাওয়ার পরই জানুয়ারি–মার্চ সময়ে খেলাপি ঋণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বেড়ে এক লাখ ৩১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বহির্বিশ্বে যুদ্ধাবস্থা দির্ঘ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে। এতে করে ঋণ গ্রহীতারা প্রদেয় কিস্তির সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে অসুবিধার মুখে পড়ছেন। এরকম পরিস্থিতে উৎপাদন ও সেবা খাতসহ সকল ব্যবসা চলমান রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গতি বজায় রাখতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদি কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণসহ গত ১ এপ্রিল মেয়াদি ঋণের বিপরীতে এপ্রিল–জুন সময়ে প্রদেয় কিস্তির ন্যূনতম ৫০ শতাংশ শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করলে তা খেলাপি করা যাবে না। এসময়ে কিস্তির বাকি অংশ বিদ্যমান ঋণের পূর্ব নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে এক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
এ সার্কুলারের আওতায় সুবিধা নেওয়া ঋণে কোনো ধরনের দন্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না।
একাত্তর/এআর
