বৃষ্টির অজুহাতে আবারও রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত। বেড়েছে মাছসহ মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টিকে অজুহাত দেখালেও ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে হতাশা আর উদ্বেগ। সবজির দোকানে যেন প্রতিদিনই নতুন দামের তালিকা। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমার অজুহাতে বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত দাম বাড়িয়ে চলেছেন, ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানান সাধারণ মানুষ।
সবজির দামে দেখা যাচ্ছে ৭ থেকে ১০ টাকার পার্থক্য। করলা, বরবটি, বেগুন এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দামে, যেখানে আগে ছিল ১০০ টাকার নিচে। শিম ২০০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা এবং দেশি গাজর ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে। এছাড়া লেবুর হালি ১৫ থেকে ২০ টাকা, ধনেপাতার কেজি ২৫০ টাকা।

মুদি পণ্যের বাজারেও একই অবস্থা। চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, বেড়েছে ডালের দাম। অন্যদিকে, মাছের বাজারেও বৃষ্টি আর সিন্ডিকেটের অজুহাতে চলছে মূল্যবৃদ্ধি। ইলিশ মাছের দাম কেজিপ্রতি ৯০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত।
স্থিতিশীল আছে গরুর মাংসের দাম, বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকা কেজিতে। আর, খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সিন্ডিকেটের কারণে এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
প্রতিদিন কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ভোক্তা। গত আগস্টের শুরুতে সরকার বদলের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও কাঁচাবাজারগুলোতে চাঁদাবাজি অনেকটা কমে আসে। এতে পণ্যের দাম অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে ভেবেছিল ভোক্তারা।

কিন্তু পণ্যের দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। চাল, মাছ, মাংস, ডিম, সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকছে না। জুলাই থেকে অক্টোবরে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম ৯ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে পোলট্রি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে মুরগি, ডিম ও সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি বেড়েছে। এতে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহের ঘাটতি না থাকলেও বাজারে নজরদারি কম থাকায় ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।
ডিমের দামে ডিগবাজি, সমানে চলছে কারসাজি