বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বা এলডিসি গ্রাজুয়েশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ব্যাপারে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে। তবে বাংলাদেশ চাইলেই তা পিছিয়ে যাবে না। সরকার তাই জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে এ ব্যাপারে আবেদন করবে। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করতে প্রধান উপদেষ্টার মূখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
এর আগে আনিসুজ্জামান চৌধুরী অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এসে সাক্ষাৎ করেন। সোমবার আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে নিয়োগ দেয়া হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে উন্নীত হবার কথা। তবে এটি কার্যকরের পর স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ।
সোমবার নিয়োগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে অফিস করেন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পাওয়া ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো কিনা এবং এ বিষয়ে প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পুনর্বিবেচনা করতে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি করা হয়েছে। ইআরডি সচিব ও এফআইডি সচিব এ কমিটির সদস্য।
তিনি বলেন, বলেন, ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হতে চাচ্ছি। সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের বৈদেশিক নির্ভরতা বেড়ে গেছে ২০১০ সাল থেকে। কমে গেছে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস। সাত শতাংশের নিচে নেমে গেছে কর-জিডিপির হার। যদি আরও ঋণ নিতে হয়, আরও চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে।’
এলডিসি থেকে উত্তরণের সূচকগুলো কি ভুয়া ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘মনে করুন সব সঠিক, কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি কী? আমরা যে বাজারসুবিধাটা পাই, তার ৮৫ শতাংশই হচ্ছে তৈরি পোশাক খাতে। এখানে আমাদের রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। ২০১৮ সাল থেকে বলছি, এলডিসি থেকে বের হব। ৭ বছরেও একটা খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমল না কেন?’
এলডিসি থেকে উত্তরণ স্থগিত থাকবে কি না, জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, এখনো সেই সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। ব্যবসায়ী ও পোশাক শিল্পের মালিকদের সঙ্গে বসতে হবে। এখনই তা বলতে পারব না।
বাংলাদেশ চাইলেই কি তা স্থগিত করতে পারবে, এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এটা পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে নয়। তবে আমরা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারি। আবেদনের সঙ্গে যথাযথ কারণগুলো উল্লেখ করতে হবে এবং একটা বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা দিতে হবে। আমরা সেদিকেই যাব।
