স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া তিন বছরের জন্য স্থগিতের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠিটি সিডিপির কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এলডিসি উত্তরণে ৫ বছরের যে প্রস্তুতিমূলক সময় পাওয়া গিয়েছিল, তা কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বব্যাপী কড়াকড়ি মুদ্রানীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মতো বৈশ্বিক ধাক্কায় ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হলে রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করতে আরও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়া খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ বিলম্বিত করতে যা যা করা দরকার, সবই করা হবে। ইআরডির সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করে এ কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের কথা ছিলো। বর্তমান আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার এই সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা