প্রায় ১০ বছর হেফাজতকাণ্ডে ভুয়া তথ্য ছাড়ানোর মামলায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের বিতর্কিত সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় রায় পেছানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণার কথা থাকলেও আদালত তা পিছিয়ে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার রায়কে ঘিরে সকাল থেকে নিম্ন আদালতে জড়ো হতে থাকেন দেশের মানবাধিকার কর্মীরাসহ কানাডার হাইকমিশনার ও সুইস রাষ্ট্রদূত। এজলাসেও উপস্থিত হন তারা।
ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে রায় ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল।
তবে রায় তৈরি না হওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে ৬১ জনের মৃত্যুর ভুয়া তালিকা প্রচারের অভিযোগে ২০১৩ সালে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তালিকায় থাকা অস্তিত্ববিহীন নিহতদের এলাকা ও মাদ্রাসা থেকেও সাক্ষীরা এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে মিথ্যাচারের প্রমাণ মিলেছে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা।
পরে শাপলা চত্বর থেকে তাদের সরিয়ে দিতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী।
ওই ঘটনায় হাজার হাজার নেতাকর্মী মারা গেছে বলে দাবি করে হেফাজতে ইসলাম। তবে দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি তারা।
এরপর একই বছরের ১০ জুন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার দাবি করে বসে, হেফাজতের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়ার ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন।
এই তালিকা মিথ্যা উল্লেখ করে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম। পরে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
একই বছরের ১০ জুলাই তালিকাটি চেয়ে অধিকারকে চিঠি দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় অধিকার।
পরে ১০ আগস্ট গ্রেপ্তার হন অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান। পরদিন সংগঠনটির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটারে পাওয়া যায় ৬১ জনের নামের তালিকা।
এ নিয়ে তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৩২ জনকে সাক্ষী করে আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি শুরু হয় বিচার কাজ। কিন্তু উচ্চ আদালতে আসামিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যায় বিচার কাজ। পরে ২০১৭ থেকে শুরু হয় শুনানি।
২২ জনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটি প্রমাণের ব্যাপারে আশাবাদী রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন ভূইয়ার দাবি রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমাণ করতে পারেনি। তবে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
হেফাজতের তাণ্ডবে ৮৩ মামলার বিচার হয়নি ৮২টির
হেফাজতের কাছে ৫ মে'র মূল্যায়ন