বিএনপি-জামায়াতেসহ বেশ কয়েকটি দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরুর আগের রাতে গুলিস্তানে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার রাত ১০টার দিকে গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের সামনে ওই বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। যাত্রীবাহী বাসটি মনজিল পরিবহনের।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১০টার দিকে আমরা ওই বাসে আগুনের খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই আগুন নিয়ন্ত্রনে আসেনি।

এদিকে সন্ধ্যায় আধা ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া মার্কেটের সামনে এবং রাত আটটার দিকে সায়েদাবাদ ফ্লাইওভারের নিচে জনপথ রোডে মোট তিনটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গাউছিয়া মার্কেটের সামনে সাড়ে সাতটার সময় মিরপুর লিংক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হয়।
ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্লান সিটি সেন্টারের সামনে গ্রিন ইউনিভার্সিটির একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
রাত ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিস খবর পায়, রাজধানীর সায়েদাবাদ ফ্লাইওভারের নিচে জনপথ মোড়ে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পোস্তগোলা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
টানা তিন দিনের অবরোধ শেষে বৃহস্পতিবার নতুন করে দুই দিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা বেশ কয়েকটি দল।
২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপিকর্মীরা। এসব ঘটনার মধ্যেই রোববার সারাদেশে হরতাল দেয় বিএনপি-জামায়াত।
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৮২টি স্থানে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছে তারা। এর মধ্যে ৬৮টি ঘটনায় পোড়ানো হয়েছে যানবাহন। এই সময়ে প্রাণ গেছে অন্তত ৯ জনের।
কেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছেড়ে সহিংস বিএনপি?