গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরবর্তী তারিখ ২০ নভেম্বর। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে ন্যায়বিচার চান ইউনূস।
এদিকে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগ, মামলা এখন বোয়িং বিমানের গতিতে চলছে ড. ইউনূসকে হয়রানির জন্যই। অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের মতে, কাউকে আলাদাভাবে বেছে হয়রানির সুযোগ নেই এ মামলায়।
বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মেরিনা সুলতানার তৃতীয় শ্রম আদালতে যুক্তিতর্ক শুনতে বেলা পৌনে বারোটায় শ্রম আদালতে হাজির হন ড. ইউনূসসহ চারজন। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে শুরু হয় শুনানি।
যুক্তিতর্ক শুরু করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। বিকাল সাড়ে চারটায় শেষ হয় প্রথমদিনের যুক্তিতর্ক।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা সুবিচার চাই। সমস্ত সাক্ষী-প্রমাণ দেয়া হয়েছে এখন আদালত বিচার করবেন। আমরা চাই, যাতে সুবিচার পাই।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি এখন বলবো মেট্রোরেল নয়, বোয়িং বিমানের চেয়েও ১০ গুণ গতিতে এই মামলার তারিখ দেয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী যদি বিচার হয়, খালাস দেয়া ছাড়া পৃথিবীতে কোনো শক্তি নাই যে এই মামলায় শাস্তি প্রদান করে।
যদিও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষের আইনজীবী এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, কারো প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে, কারো প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো মামলা করা হয়নি। রায় কী হবে সেটা আমরা জানি না। উনি (আসামিপক্ষের আইনজীবী) আগাম কীভাবে বললেন সেটা আমার জানা নেই। তবে আমরা আদলতের কাছে বিচারপ্রার্থী।
২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদি হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন।
মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৪টি ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
