দুই দশক পর হালনাগাদ হচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন। আইনটির নাম দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৪। খসড়া পর্যায়ে থাকা এই আইনের কিছু ধারা নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টদের ভিন্নমত আছে। বিশেষ করে বিরোধ নিষ্পত্তি, অতি উচ্চ হারে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, যেকোনো ধরনের অপরাধকে জামিন অযোগ্য বলে বিবেচনা করা, দায়মুক্তি ইত্যাদিসহ আরও বেশ কিছু ধারা পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবি (টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ) ও মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব (অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ) আয়োজিত গোলটেবিলে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ। এতে সম্মানিত অতিথি (গেস্ট অব অনার) এমটবের সভাপতি ইয়াসির আজমানসহ দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, শিক্ষাবিদ, পদস্থ কর্মকর্তারা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক এবং মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম।
টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সঞ্চালনায় বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। আলোচনায় আরও অংশ নেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল মাবুদ চৌধুরী (অতিরিক্ত দায়িত্ব), বাংলালিংক ডিজিটালের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিকসন, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.), মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শহীদ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমদাদুল হক, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাইমুম রেজা তালুকদার প্রমুখ।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পরে দেশ যখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, সে সময় আইনের খসড়ার কিছু দিক নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
খসড়া আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গিয়ে বক্তারা বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দেশে ২০০১ সালে প্রণীত একটি পৃথক আইন থাকা সত্ত্বেও খসড়ায় এ সংক্রান্ত ধারা সন্নিবেশিত করা হয়েছে, যা নতুন করে সমস্যা তৈরি করবে।
খসড়ায় সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি টাকাসহ উচ্চ জরিমানার বিধান রয়েছে, যা অনেক বেশি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রশাসনিক জরিমানাই এক ধরনের শাস্তি, এর ওপরে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়, যা ব্যবসাবান্ধব নয়। এতে এই খাতের লাইসেন্সিদের অপরাধকে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
এতে সরকার বা কমিশনকে তাদের কোনো কাজের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কোনো পদক্ষেপের ওপর কোনো দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার থাকবে না বলে বলা হয়েছে। এ ধরনের বিধান সাংবিধানিক অধিকার এবং দেশের আইন প্রণয়নের চেতনার পরিপন্থী।
বক্তারা বলেন, আইনে এমন কোনো ধারা থাকা উচিত নয়, যা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। তারা সরকারের কাছে খাত সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি আইন প্রণয়নের অনুরোধ করেন।
এছাড়াও এই আইনের খসড়ায় নিয়ন্ত্রক কমিশন বিটিআরসি’র স্বাধীনতা হরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবসার বিষযটি যথাযথভাবে সংজ্ঞায়িত হয়নি, অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি এআই’র মতো সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং ভিন্ন ভিন্ন গাইডলাইনের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলেও দাবি খাত সংশ্লিষ্টদের।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা এখন থেকে কেবল নগদে