রাজধানীর মোহাম্মদপুরের খাল এবং সড়কের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত সাদিক এগ্রোর অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
বৃহস্পতিবার ডিএনসিসি অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বির আহমেদ এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
এ সময় মোতাকাব্বির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, খালের জায়গার উপরে যারাই স্থাপনা করবে সেসব ভেঙে দেওয়া হবে। সাদিক এগ্রোর স্থাপনার কিছু অংশ খালের উপরে পড়েছে। সেসব ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
অভিযানের খবরে চাউর হলে আগেই সাদিক এগ্রোর বেশ কিছু গবাদি পশু সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া খাল ও সড়কের জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে রাখা অস্থায়ী কিছু স্থাপনাও সরিয়ে নেয় তারা।
উচ্ছেদের সময় খামারের মালিক ইমরান হোসেনকে সেখানে দেখা যায়নি। তাছাড়া উচ্ছেদের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কেউ কথাও বলতে চাননি।
সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন গবাদিপশুর খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি।
সম্প্রতি কোটি টাকার ‘অভিজাত’ গরু এবং ‘১৫ লাখ টাকার’ খাসি নিয়ে আলোচনায় আসে সাদিক এগ্রো।
দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করে আসছে আলোচিত-সমালোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পশু আমদানি এবং বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে গবাদি পশু নিয়ে ব্যবসা করার আইন ও নীতিমালা রয়েছে। তবে, তা তোয়াক্কা না করেই অনেক খামারি গরু ও ছাগল উৎপাদন, প্রজনন, বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার অন্যতম উদাহরণ সাদিক অ্যাগ্রো ।
সাদিক অ্যাগ্রোর অবস্থান মোহাম্মদপুর সংলগ্ন বসিলার বেড়িবাঁধ এলাকায়। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে জমি দখল করে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ছাড়া অন্য কোন বিদেশি জাতের ছাগল নিয়ে ব্যবসা করতে সরকার কাউকে অনুমোদন দেয়নি। দেশে ব্রাহমা জাতের গরু বিক্রির জন্যও কেউ অনুমোদন নেয়নি বা কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
২০১৬ সালে কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালার অধীনে বেসরকারিভাবে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে খামারিদের মাধ্যমে ব্রাহমা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার। অথচ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আমদানি করা ১৮টি ব্রাহমা জাতের গরু বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই ব্রাহমা জাতের গরুগুলো আমদানি নিষিদ্ধ হলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আনা হচ্ছিলো। আটক করা ব্রাহমা গরুগুলোকে আনা হচ্ছিলো ফ্রিজিয়ান জাত বলে। ওই ঘটনায় সাদিক এগ্রো দায়ী থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে গরুগুলো বাজেয়াপ্ত করে সরকার।

এ বছর কোরবানি ঈদের সময় সাদিক এগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ইফাত এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের ছেলে। পরে মতিউরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
আলোচনার মধ্যেই কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানকে এনবিআর থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সরানো হয়েছে তাকে।
এছাড়া মতিউর ও তার পরিবারের সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সাদিক এগ্রোতে অভিযান, পশু সরানো হয়েছে আগেই