আক্রমণকারীদের কেউই শিক্ষার্থী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় আহত পুলিশ সদস্যরা। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আহত ৩৯২ জন পুলিশের বেশিরভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। গুলিতেও আহত হয়েছেন কেউ কেউ।
আহতরা বলছেন, হত্যার উদ্দেশ্যেই বেছে বেছে পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে।
গেলো বৃহস্পতিবার মেরুল বাড্ডার কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর ৬২ জন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে রয়াবের হেলিকপ্টার। কিন্তু রেহাই পাননি ভবনটির দোতলায় আটকা পড়া নায়েক বোরহানউদ্দিন।
নায়েক মো. বোরহানউদ্দিন জানান, তাকে ধরে রাস্তায় নিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। এরপর তাকে বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া হয়।

বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণের পর কনস্টেবল আবুল কালামও ভেবেছিলেন আর কখনও হয়তো সন্তানের মুখটা দেখা হবে না। স্ত্রী নার্গিসও প্রথম শুনেছিলেন, মারাই গেছেন কালাম।
কনস্টেবল আবুল কালাম জানান, তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভেতরে। তার সাথে থাকা কনস্টেবল হানিফকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে তাকে ফেলে যায় হামলাকারীরা।
যাত্রবাড়ীতে আহত সাব-ইন্সপেক্টর রেজাউল হাসান কিংবা আফতাবনগরের সার্জেন্ট সৈয়দ মাসুদুর রহিমের মতো অনেকেই হামলার শিকার হন দায়িত্বে যাওয়ার পথে।
সাব-ইন্সপেক্টর রেজাউল হাসান জানান, সাথে থাকা ব্যাগ চেক করে পুলিশের ইউনিফর্ম পায় আন্দোলনকারীরা। এরপরই লাঠিসোটা, বাঁশ, ইট, হাতুড়ি দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। যারা তাকে আঘাত করেছেন, বা আশেপাশে যারা ছিলো, তাদের কাউকে দেখে তার ছাত্র মনে হয়নি বলে জানান তিনি।
আহতরা বলছেন, হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের মাথা লক্ষ করেই বেশী হামলা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন পুলিশের ইউনিফর্মের ভেতরে যে একজন মানুষ, এই সমাজেরই কারো বাবা বা সন্তান; সেটি কেন ভুলে গেল হামলাকারীরা ?
আহত শতাধিক র্যাব সদস্য। তাদের একজন গুরুতর অবস্থায় সিএমএইচে চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন তিন পুলিশ সদস্য। আহত এক হাজার ১১৭ জন । ২৩৫টি থানা, ফাঁড়ি ও ক্যাম্পে এবং ২৮১টি যানবাহনে হামলা ভাংচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে।
নাশকতার ক্ষত সরিয়ে স্বাভাবিক চেহারায় ফিরছে রাজধানী