লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের জুয়েলার্সের দোকান থেকে কাস্টমারকে দেখানোর কথা বলে ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে উধাও হওয়া এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুরের জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের তৎপরতা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে ঢাকা থেকে তাকে আটক এবং সম্পূর্ণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ওই ব্যক্তির নাম রঞ্জিত পাল। তিনি লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রঞ্জিত পাল পৌর শহরের একটি জুয়েলার্সের দোকানে গিয়ে তার এক কাস্টমারকে দেখানোর কথা বলে স্বর্ণালঙ্কার চান। স্বর্ণ বিক্রি হলে নগদ টাকা পরিশোধ করবেন—এমন আশ্বাসে জুয়েলার্স ব্যবসায়ী পলাশ চন্দ্র কুরীর দোকান থেকে ১০ ভরি সাড়ে চার আনা দুই রতি সাত পয়েন্ট স্বর্ণ নেন রঞ্জিত। একইভাবে কৌশলে শহরের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও স্বর্ণালঙ্কার নেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে তিনি চম্পট দেন।
অভিযোগকারী জুয়েলার্স ব্যবসায়ী ও জেলা বাজুসের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চন্দ্র কুরী বলেন, স্বর্ণ দেওয়ার পর খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন রঞ্জিত পাল দোকান থেকে অলঙ্কার নিয়ে সটকে পড়েছেন। পরে তার নিজের দোকান ও বাসায় গিয়েও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি জানাজানি হলে জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ডিবি সদস্যরা আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তায় রঞ্জিত পালের অবস্থান শনাক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের মোবাইল ফোন ফেলে দিয়ে এবং বারবার স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ডিবির একটি দল ঢাকার একটি নতুন ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে। পরে ব্যবসায়ীদের দাবি করা আত্মসাৎ হওয়া প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণই উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আটক রঞ্জিত পালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা বাজুসের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চন্দ্র কুরী ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “স্বর্ণ ব্যবসা দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে চলে। কোনো ব্যক্তিবিশেষের প্রতারণার কারণে যেন পুরো স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া অলঙ্কার লেনদেন না করার জন্য সব ব্যবসায়ীকে আহবান জানানো হচ্ছে।
