এবারের ভূমিকম্পই কয়েক দশকে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ও সর্বোচ্চ মাত্রার বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদ মো. রুবাইয়াত কবির বলেন, রাজধানী থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে উৎপত্তি হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি মাঝারি গোত্রের। এতে হিরোশিমা নাগাসাকিতে হওয়া ২০-২৫টি পারমাণবিক বিস্ফোরণের সমান শক্তি নির্গত হয়েছে। ঢাকার মাটির ধরণ এবং ভবন নির্মাণের অনিয়ম বাড়িয়েছে ক্ষয়ক্ষতি।

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্পের আতঙ্ক রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজধানীবাসীকে। এতদিন ধরে শুধু বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা শুনেই এসেছেন তারা। এবার রীতিমতো ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ছাড়লো বিপদ।
মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে এবারের উৎপত্তিস্থল। গভীরতা ১০ কিলোমিটার। সবমিলিয়ে কাগজে কলমে মাঝারি মাত্রার হলেও এবারের ধাক্কাটা বেশ বড় আকারেই গেছে ঢাকার উপর দিয়ে। ঘটেছে হতাহত আর একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবার ঘটনাও।

আবহাওয়াবিদ মো. রুবাইয়াত কবির বলেন, ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি তুলনা করলে, সেক্ষেত্রে এটা হয়ত হিরোশিমা নাগাসাকিতে ফেলা ২০-২৫টি পারমাণবিক বিস্ফোরণের সমান।
ইট কাঠের জঙ্গল হয়ে ওঠা ঘিঞ্জি এ শহরের প্রায় ৯০ ভাগ পুরোনো ভবনে বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। মাটির শক্তি ও ভূমিকম্প সহনশীলতার তোয়াক্কা না করেই নিয়মনীতি ভেঙে গড়ে উঠেছে একের পর এক বহুতল ভবন। বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই ভূমিকম্পে আশ্রয় নেয়ার ন্যূনতম খোলা জায়গাটুকুও। আবার বড় দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার মত রাস্তাও নেই অনেক জায়গাতেই। যেখানে সেখানে নিয়ম ভঙ্গ করে টানা হয়েছে বৈধ-অবৈধ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ।
রুবায়েত কবিরের মতে, ৯ বা এধরণের উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা ততটা নেই এ দেশে।
তবে ভূমিকম্প নিয়ে প্রস্তুতির যে ভীষণ অভাব আর ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণে যে অনিয়ম- তাতে অল্প মাত্রার ভূমিকম্পেও অনেক বেশি ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে বলেও মত এই আবহাওয়াবিদের।
নরসিংদীতে ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে চার, আহত শতাধিক
নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান ড. ইউনূসের