চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পর প্রতিবাদে উত্তাল শাহবাগ। রাস্তা অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্রজনতা। খুনিদের ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। অন্যদিকে মধ্যরাতে হামলা হয় প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের অফিসে। ভাঙচুর করা হয় ছায়ানটও।

রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে একের পর এক শোক মিছিল আসতে শুরু করে শাহবাগে। জড়ো হন হাদির সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো চত্তর। আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
তাদের সঙ্গে যোগ দেন নাহিদ-আসিফ আর মাহফুজরাও। দীপ্ত কণ্ঠে বিচার চান তারা। জানান, হাদির সংগ্রাম থেমে যাবে না বরং এই লড়াই এগিয়ে নেবে তার সহযোদ্ধারা।

এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কার্যত এখন একটা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক ছাত্র, তরুণ এবং এই দেশকে ভালোবাসে এই সব নাগরিকের জীবন বিপন্ন। কিন্তু আমরা বলেছি- আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে আমাদের কেউ পরাজিত করতে পারবেনা।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম বলেন, আর ঘরে বসে থাকার সময় নাই। আমরা এবার নামছি, পাঁচ আগস্টের আগেও নেমেছিলাম শহীদ হবো, শহীদি মৃত্যু হবে সেই আকাঙ্খা নিয়ে আমরা আবারও নেমেছি। যদি মৃত্যুও হয় আমাদের শত্রুদের মোকাবিলা করে মরবো।

আরেক জুলাইযোদ্ধা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, হাদি ভাই নিজেকে একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। হাদি ভাইয়ের লড়াই, আমাদের লড়াই। এই লড়াই গড়ার লড়াই, ভাঙার বিরুদ্ধে, আগুনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই।

এদিকে রাত ১২টার কিছু আগে দৈনিক প্রথম আলো ভবনে ভাঙচুর শুরু করেন বিক্ষুব্ধরা। তারা ভবনে প্রবেশ করে সেখানকার নথিপত্র ও আসবাব বাইরে ফেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ভবনে চালানো হয় ভাঙচুর। এক পর্যায়ে চার তলা এই ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারেও। এখানে প্রায় ৩০ জন সংবাদ কর্মী আটকা পড়েন ভবনের ছাদে। পরে তাদের উদ্ধার করে দমকল বাহিনী।

হেনস্তা করা হয় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবিরকে। সাংবাদিকরা আক্রান্ত এমন খবর পেয়ে তিনি কারওয়ান বাজারে ছুটে আসেন। কয়েকজন তাকে ঘিরে মবের সৃষ্টি করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে নুরুল কবিরকে সরিয়ে নেয়।

হামলা হয়েছে ধানমন্ডির ছায়ানটেও। ভাঙচুর করা হয় এখানকার কয়েকটি ফ্লোরের জিনিসপত্র।

ঘটনার দিন একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আবারও ভাঙচুর করে ধামন্ডির ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িও।
