সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজধানী ঢাকা। শোকাতুর এই পরিবেশে বুধবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের স্পিকার বুধবার বিকেলে জানাজাস্থলে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে তাঁরা দুজন পৃথকভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো শোকবার্তাটি ড. এস জয়শঙ্কর আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানের হাতে হস্তান্তর করেন। অন্যদিকে, সরদার আইয়াজ সাদিক তাঁর দেশের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বিদেশি এই প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টারা। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ড. এস জয়শঙ্কর ও সরদার আইয়াজ সাদিকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও আলোচনা করেন।
বেগম জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গেলও আজ ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার গুরুত্ব কতটা গভীর ছিল।
মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৮০ বছর বয়সী এই জননন্দিত নেত্রী। বুধবার দুপুর ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর ঐতিহাসিক জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর বিকেলে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
বড় কোনো রাজনৈতিক প্রয়াণে ঢাকা কেন্দ্রিক এই কূটনৈতিক তৎপরতা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
