৯ বছরেও বিচার হয়নি কক্সবাজারের রামু ট্রাজেডির। তদন্তের নানা অনিয়মে বিচার হচ্ছে না বলে মনে করেন সেখানকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষেরা।
আর এলাকার সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল মনে করেন, এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছিলো সেটি এখন সামনে আনা দরকার।
যদিও সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম মনে করেন সাক্ষীরা সময়মত সাক্ষ্য দিলে বিচারে দেরি হতো না।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গুজবকে কেন্দ্র করে রামুতে সংঘটিত হয় ভয়াবহ ঘটনা।
রাতের অন্ধকারে রামুতে ১২টি বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয় করে দুস্কৃতিকারীরা।
পরের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে একইভাবে উখিয়া ও টেকনাফে আরও সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘরে হামলা ও আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
সেই আগুনে ছাই হয় রামুর হাজার বছরের পুরাতাত্বিক মন্দিরের নিদর্শন। ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দেয়া আগুনের ভেতর থেকে ভারী হয়ে উঠেছিলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের আর্তনাদ।
কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি বুদ্ধভিক্ষু প্রজ্ঞানান্দ। যার চোখের সামনে ঘটেছে এই ধংসযজ্ঞ। অথচ, সাত বছর পর তিনি জানলেন এই মামলার তিনি সাক্ষী।
বললেন, রামু ঘটনার পর ১৯টি মামলা হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত ছাড়া। যেখানে অনেক অপরাধী পার পেয়ে গেছেন। নিরাপরাধ অনেকে হয়েছেন আসামি।
তিনি আরো জানান, এখন জেনেছেন মামলাগুলোর দেড় শতাধিক সাক্ষী। এদের কেউ ভয়ে আবার কেউ সময় মতো না জানানোর ক্ষোভে সাক্ষ্য দিতে চান না।
এলাকার ধর্মীয় নেতারা বললেন, নানা অসঙ্গতির কারণে রামু, উখিয়া টেকনাফের মন্দির ও বসতবাড়ী পোড়ার মামলাগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, রামুর ঘটনার পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটি সামনে আসা দরকার। তবেই প্রকৃত অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন হবে।
রাষ্টপক্ষের আইনজীবীর আশা, ১৮ মামলার সাক্ষীরা জবানবন্দি দিলেই মামলার গতি বাড়বে। সাক্ষীর অভাবেই গতিহীন হয়ে পড়েছে এসব মামলার বিচার কাজ।
তবে, রামুর ঘটনার এক বছরের মধ্যে শোভা পায় শৈল্পিক বৌদ্ধ মন্দির, ঘর হারা মানুষ পায় নতুন ঘর।
একাত্তর/এআর
