কক্সবাজারে চকরিয়ায় অবিরাম কাটা হচ্ছে টিলা। নষ্ট করা হচ্ছে বনায়ন। শুধু পাহাড় কেটেই ক্ষান্ত হচ্ছে না সেখানকার ভূমি দস্যুরা।
সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ধ্বংসযজ্ঞের এই খবর জেনেও নীরব প্রশাসন।
ঘটনাস্থল দাঙ্গার বিলের রংমহল গ্রাম। বিশাল এ বিলের কিছু জমির মালিকানা নিয়ে এক সময় দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকতো। যে কারণে জায়গাটি দাঙ্গার বিল নামেই সবার কাছে পরিচিত।
সেখানের রংমহল গ্রামের ৫০০ একর জমি জুড়ে ছিলো বড় আকারের টিলা ও বনায়ন। কিন্তু সেই টিলা কাটতে কাটতে এখন সমতল ভূমি।
প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর গর্ত করে সেখান থেকেও তোলা হচ্ছে মাটি। পরিবেশ বিধ্বংসী অপতৎপরতার কারণে এক পাশে সাফারি পার্ক, পাহাড়ি টিলাসহ গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।
এরই মধ্যে হেলে পড়েছে পার্কের নিরাপত্তা দেওয়াল। এছাড়া যে কোনো মূহুর্তে আশপাশের টিলা সেখানে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রায় বছর খানেক ধরেই একটি প্রভাবশালী মহল এখানে চালাচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাটি।
সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের নানা জায়গায়। শ্রমিকরা জানায়, এলাকার অনেকের হয়েই তারা মাটি কাটছেন। এদিকে মাটি কাটার ফলে দূষিত হচ্ছে রংমহল গ্রামের বাতাস।
এলাকার জন প্রতিনিধিরা বলছেন ধ্বংসযজ্ঞের কথা জেনেও নীরব প্রশাসন। আর বন বিভাগের কর্তারা বলছেন লোকবলের অভাবে অভিযান করতে পারছেন না তারা।
এদিকে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানান, পরিবেশ ধ্বংসরোধে জেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
এরই মধ্যে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে বাঁধা না দেয়ায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা।
