ঈদযাত্রায় যুক্তিহীন গতির প্রতিযোগিতায় নেমে সড়কে প্রাণ দিতে হয়েছে সাতজনকে। দুই বাসের মুখোমুখি সেই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া মহিষভাঙ্গা এলাকার এই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ বলছে, বাসের অতিরিক্ত গতিই মর্মান্তিক এই ঘটনার জন্য দায়ী।
শনিবার মা আর মামার সাথে টাঙ্গাইল যেতে সাদিয়া ও ভাই কাওসার উঠেছিলেন সিয়াম পরিবহনের একটি বাসটিতে।
বনপাড়া মহিশ ভাঙ্গা এলাকায় পৌছাতেই ন্যাশনাল পরিবহনের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। মা আর মামার তেমন কিছু না হলেও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাদিয়া এবং কাওসার।
ফলে, একদিন আগেও যাদের আলোয় ঘর আলোকিত ছিলো, এখন পুরো বাড়ি জুড়ে কেবল তাদের হারানোর আহাজারি।
একইভাবে প্রাণ হারিয়েছে ঢাকায় মিরপুরের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মিলি। রেখে গেছে দুই বছরের শিশু সন্তানকে। ঘটনায় নির্বাক হয়ে গেছেন রফিকুলও।
শুধু সাদিয়া, কাওসার বা মিলি নয় দুই বাসের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে সাতজনের। হাটিকুমরুল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলে ছয়জন এবং পরে একজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ন্যাশনাল পরিবহনের চালকের বেপরোয়া গতিতে চলছিলো। এই অবস্থায় বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহনের বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় সিয়াম পরিবহনের বাসটি ছিটকে গিয়ে রাইস মিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
ন্যাশনাল পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়ক থেকে কিছুটা নেমে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী।
সংঘর্ষে উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। মুহূর্তেই যাত্রীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণ ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিলো।
বগুড়া জোনের হাইওয়ে পুলিশের সুপার মুনশি শাহাবুদ্দিনও জানান, দুর্ঘটনার কারণ গাড়ির অতিরিক্ত গতি। নিয়মিত অভিযান চললেও চালকদের বেপরোয়া মনোভাব কমছে না।
আরও পড়ুন: ঈদে বাইক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হাসপাতালেই মারা গেছেন ৬০ জন
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চার জন এবং সিয়াম পরিবহনের দুই জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত ন্যাশনাল পরিবহনের চালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খুঁজে পাওয়া যায়নি সিয়াম পরিবহনের চালককে।
একাত্তর/এসি
